প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেছেন, এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) এখন কেবল একটি প্রযুক্তিগত সামগ্রী নয়, এটি এখন জাতীয় শক্তি, নিরাপত্তা এবং ভূ-রাজনীতির এক সংকটময় হাতিয়ারে পরিণত হচ্ছে। আধুনিক যুগে চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী এআই ইকোসিস্টেমের নেতা হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।
আজ (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে (বিআইআইএসএস) ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সুশাসন : বৈশ্বিক প্রযুক্তি কাঠামো, জাতীয় ডিজিটাল গণ-অবকাঠামো এবং নীতি-নির্দেশনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আগামী দিনগুলোতে এআই প্রযুক্তি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সরকারের পূর্ণ সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা রয়েছে। আমরা ইতোমধ্যেই দেখেছি যে এনআইডি, ই-নথি এবং ফাইল চালাচালির ক্ষেত্রে তথ্যের প্রাপ্যতা সহজ হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যেই অনেক দূর এগিয়েছি, কারণ এখন প্রত্যেকের হাতে মোবাইল ফোন রয়েছে। এখন আপনি যদি মানুষের কাছে পৌঁছাতে চান, আপনার কাছে সুনির্দিষ্ট মাধ্যম রয়েছে।
তিনি বলেন, দুটি মন্ত্রণালয়ের দুজন যুগ্ম সচিবের কাছ থেকে যা শুনলাম তা হলো— আমরা এখনো এআই পলিসির খসড়া তৈরির পর্যায়ে আছি। আমাদের এখনো এআই পলিসি তৈরি করা বাকি। তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমাদের প্রথমে একটি চূড়ান্ত পলিসি বা নীতিমালা নিয়ে আসতে হবে এবং তারপর ধীরে ধীরে বাস্তবায়নে যেতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আসার মতো চ্যালেঞ্জিং বিষয়গুলোর মুখোমুখি হতে পারি।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, আমি নিশ্চিত যে বাংলাদেশে প্রচুর মেধাবী মানুষ রয়েছে। তবে কেবল মেধা থাকলেই জাতীয় সক্ষমতা তৈরি হয় না। মেধাকে প্রযুক্তিতে রূপান্তর করতে হবে, প্রযুক্তিকে প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে আর প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে।
তিনি বলেন, ইসরায়েলের দিকে তাকান— সেখানে ২ হাজার ১৫০টিরও বেশি এআই কোম্পানি গড়ে উঠেছে এবং এআই তাদের পরিচয়ে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা এটা নয় যে আমাদের ইসরায়েলকে অনুকরণ করতে হবে, শিক্ষা হলো— একটি ছোট দেশও কীভাবে প্রযুক্তিগতভাবে অসামান্য প্রভাব ফেলতে পারে যখন মেধা, গবেষণা, মূলধন, সামরিক অভিজ্ঞতা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং উদ্যোক্তারা একসঙ্গে যুক্ত হয়।
ইসমাইল জবিউল্লাহ এআই ব্যবহারে তথ্যের গোপনীয়তা, ব্যক্তিগত তথ্যের যথাযথ সম্মতি এবং সতর্কতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বাংলাদেশে এআইয়ের প্রাথমিক প্রয়োগের উদাহরণ তুলে ধরে এআই নীতিমালা দ্রুত চূড়ান্ত করার এবং প্রকল্প প্রণয়ন, পরিকল্পনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় এর সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য বার্তাটি অত্যন্ত স্পষ্ট, আমাদের এআই ব্যবহার করতেই হবে, তবে সতর্ক হতে হবে।
সেমিনারে বিস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি অনুবিভাগের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ মুনতাসির মামুন ও ঢাকা ফোরাম ইনিশিয়েটিভের চিফ স্ট্র্যাটেজিস্ট আশফাক জামান।
এনআই/এসএএস/এনএফ
