অপরিকল্পিত ও দ্রুত নগরায়ণের কারণে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব বাড়ছে। বিশেষ করে শহরে মাঠ-পার্ক ও পর্যাপ্ত গণপরিসরের অভাবে শিশুরা প্রয়োজনীয় শারীরিক কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে হেঁটে যাতায়াতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের জন্য নিরাপদ হাঁটার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘হেঁটে যাই বিদ্যালয়, দেহ-মন সুস্থ রয়’ শীর্ষক কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এ আহ্বান জানান।
ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের মিডিয়া অফিসার নাজমুন নাহার জানান, বিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সংগঠনটির প্রকল্প কর্মকর্তা প্রমা সাহার সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আকমল হোসেন।
অনুষ্ঠানে ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী বলেন, সুস্থতার জন্য প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা জরুরি। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে হেঁটে যাতায়াতের মাধ্যমেই সহজে এ শারীরিক কার্যক্রমের সুযোগ পেতে পারে। কিন্তু ভাঙাচোরা রাস্তা, জলাবদ্ধতা ও অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের কারণে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা হেঁটে যাতায়াতে উৎসাহিত হচ্ছেন না।
শিশুদের জন্য নিরাপদ হাঁটার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শায়লা খাতুন বলেন, এলাকার শিশুদের একটি বড় অংশ প্রতিদিন হেঁটে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু উপযুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশের অভাবে তারা প্রতিনিয়ত নানা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে। শিক্ষার্থীদের পথচলা স্বাচ্ছন্দ্যময় ও ঝুঁকিমুক্ত করতে এখনই সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, রাস্তার ধরন অনুযায়ী কিছু সড়ক শুধু পথচারী ও অযান্ত্রিক যানের জন্য নির্দিষ্ট করা যেতে পারে। আবার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আসা ও ছুটির নির্দিষ্ট সময়ে কিছু সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা যেতে পারে। একটি সুস্থ জাতি ও সুন্দর সমাজ গড়তে শিশুদের হাঁটার অভ্যাসকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ আকমল হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হেঁটে যাতায়াতে উৎসাহিত করা হয়। এতে শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি অর্থ সাশ্রয় এবং পরিবেশদূষণ কমানো সম্ভব। এলাকায় হাঁটার পরিবেশ ঠিক রাখতে সব স্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এলাকাবাসী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা শহরের হাঁটার পরিবেশ উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।
বক্তারা জানান, ১১ থেকে ১৭ বছর বয়সি বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ শিশু পর্যাপ্ত শারীরিক কার্যক্রমে সক্রিয় নয়। বিদ্যালয়ে হেঁটে যাতায়াত বাড়ানো গেলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক কার্যক্রমের সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি যান্ত্রিক যানবাহনের ব্যবহার কমলে বায়ু ও শব্দদূষণও কমানো সম্ভব হবে। এতে দূষণজনিত অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি জলবায়ু বিপর্যয় মোকাবিলায়ও ভূমিকা রাখা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা ইমরান মিয়া, ডকুমেন্টেশন কর্মকর্তা মো. বাবুল মিয়াসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
জেইউ/বিআরইউ
