জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় মানুষের জীবন ও জীবিকা উন্নয়নে উদ্ভাবনী উদ্যোগ নেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে এলজি ইলেকট্রনিক্স সিঙ্গাপুর বাংলাদেশ ব্রাঞ্চ (এলজি) অ্যাম্বাসেডর চ্যালেঞ্জ ২০২৬-এর বিজয়ী হয়েছেন কক্সবাজারের মিনহাজ উদ্দিন। সারাদেশ থেকে জমা পড়া প্রায় ১ হাজার ৩০০ প্রকল্পের মধ্য থেকে পাঁচটি প্রকল্পকে এবারের বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) এলজি ইলেকট্রনিক্স সিঙ্গাপুরের বাংলাদেশ ব্রাঞ্চের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জেরাল্ড চুন বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
কক্সবাজারের মাতামুহুরী নদী ও সমুদ্রতীরবর্তী জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও দুর্যোগ সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিনহাজ উদ্দিন ‘কোস্টাল লাইফলাইন : বোটস ফর লাইভলিহুড অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স’ প্রকল্পটি প্রস্তাব করেন।
প্রকল্পটি উপকূলীয় দুর্যোগ ঝুঁকিতে থাকা ও অসচ্ছল জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করবে। এর আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে জীবিকার সুযোগ তৈরি করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি দুর্যোগের সময় নৌকাগুলো স্থানীয় মানুষের জীবন রক্ষায়ও কাজে আসবে।
প্রকল্পের পরিবেশগত উদ্যোগ হিসেবে প্রতিটি সুবিধাভোগী পরিবারকে প্রতি বছর ২০টি করে গাছ লাগানোর অঙ্গীকার করতে হবে। এতে বছরে কমপক্ষে ২০০টি গাছ লাগানোর পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে প্রকল্পটি।
মিনহাজ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা, পরিবেশ সংরক্ষণ, যুব উন্নয়ন ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। গত কয়েক বছরে তার উদ্যোগে ১০ হাজারের বেশি বৃক্ষরোপণ, ২০ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ১ হাজারের বেশি মানুষকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
মিনহাজ উদ্দিন বলেন, ‘২০১৫ সালে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নদীভাঙনে আমাদের পরিবারের বসতভিটা হারিয়েছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই উপকূলের মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্ন তৈরি হয়। এই প্রকল্প একজন জেলের জীবিকার মাধ্যম নয়, এটি একটি পরিবারের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ এবং দুর্যোগের সময় একটি জীবনরক্ষাকারী সম্পদ।’
তিনি আরও বলেন, ‘এলজি অ্যাম্বাসেডর চ্যালেঞ্জ ২০২৬-এর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আমি কক্সবাজারের জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য একটি টেকসই ও বাস্তবভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়ন করতে চাই।’
এবারের বিজয়ী অন্য চার প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে সিরাজগঞ্জের মো. আবদুল্লাহ রনির নেতৃত্বে ‘অ আ ক খ স্কুল’। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ ও শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করবে প্রকল্পটি।
সাতক্ষীরার মো. হাবিবুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে ‘উপকূল অঞ্চলের নিরাপত্তা/ভিএএন প্রজেক্ট’ টেকসই জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি ও উপকূলীয় মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করবে।
খুলনার শুভ কুমার ঘোষের ‘সুন্দরবনের নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ক্ষমতায়ন’ প্রকল্পটি নারীদের কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই আয়ের সুযোগ ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা তৈরিতে কাজ করবে।
এ ছাড়া, রাজশাহীর সাবরিনা হকের ‘প্রজেক্ট উদয়’ স্থানীয় অসচ্ছল পরিবারগুলোর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং সামগ্রিক জীবনমান বৃদ্ধিতে কাজ করবে।
২০১৭ সালে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এলজি অ্যাম্বাসেডর চ্যালেঞ্জ সামাজিক বিভিন্ন সমস্যার টেকসই সমাধানে উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহ দিয়ে আসছে। আর্থিক অনুদান, দিকনির্দেশনা ও ধারাবাহিক সহায়তার মাধ্যমে নির্বাচিত প্রকল্পগুলোকে বাস্তব সামাজিক পরিবর্তনে রূপ দেওয়ার সুযোগ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
আরএমএন/এসএএস
