বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীর ২ কোটি টাকার স্বর্ণ নিয়ে উধাও কর্মচারী, গ্রেপ্তার ৬

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীর ২ কোটি টাকার স্বর্ণ নিয়ে উধাও কর্মচারী, গ্রেপ্তার ৬

চট্টগ্রাম নগরের প্রবর্তক মোড়ের মিমি সুপার মার্কেটের নিউ কনক বাহার জুয়েলার্স থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের ৫৫টি স্বর্ণের চুড়ি আত্মসাতের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে আত্মসাৎ করা স্বর্ণের ৪৬টি চুড়ি।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে পাঁচলাইশ থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংশ্লিষ্ট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. সোহেল।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রোমেন দে (৩৬), শ্যামল সিংহ, জয় দে ওরফে বাবু (২২), রনি দে (২৮), স্বপ্না দে (৫৫) ও ইমন দে (১৯)।

পুলিশ জানায়, প্রবর্তক মোড়সংলগ্ন মিমি সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় নিউ কনক বাহার জুয়েলার্সে প্রায় ১২ থেকে ১৩ বছর ধরে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন রোমেন দে। গত ১৪ আগস্ট দোকানের স্বর্ণের মজুত হিসাব করার সময় ৫৩টি চুড়ি কম পাওয়া যায়। পরে রোমেনের দায়িত্বে থাকা স্বর্ণের চুড়ির পরিবর্তে সাতটি বাক্সে ইমিটেশনের চুড়ি পাওয়া যায়।

বিষয়টি দোকানের মালিক বিপ্লব বসাককে জানানো হলে রোমেন ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে দোকান থেকে পালিয়ে যান। পরে এ ঘটনায় পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা করেন বিপ্লব বসাক।

মামলার পর অভিযান চালিয়ে গত ১৮ আগস্ট রাত ২টার দিকে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট মহাসড়ক এলাকা থেকে রোমেন দেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে রোমেন জানান, আত্মসাৎ করা স্বর্ণের চুড়িগুলো বিভিন্ন জুয়েলারি দোকানে বন্ধক রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৬টি চুড়ি বাকলিয়ার মিয়াখান নগর রোডের মডার্ন ইরানী জুয়েলার্সের মালিক শ্যামল সিংহের কাছে বন্ধক রাখা হয়।

পরে গত ১৯ আগস্ট বোয়ালখালীর কানুনগোপাড়া এলাকা থেকে শ্যামল সিংহকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিয়াখান নগর রোডের মডার্ন ইরানী জুয়েলার্স থেকে সাতটি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে শ্যামল সিংহ আরও ৩৯টি চুড়ি বিভিন্ন জুয়েলারি দোকান ও বন্ধকী ব্যবসায়ীর কাছে রাখার তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোতোয়ালী, বাকলিয়া ও চকবাজার এলাকার বিভিন্ন দোকান ও বন্ধকী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এসব চুড়ি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা ৪৬টি স্বর্ণের চুড়ির মোট ওজন ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি। এসব স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৮৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার ও আত্মসাৎ করা বাকি স্বর্ণ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরএমএন/এমএসএ