বাংলাদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমাল, ধর্মীয় উপাসনালয়, সম্পদ, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি)।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঢাকার সেগুনবাগিচাস্থ রিপোর্টার্স ইউনিটি সাগর-রুনি মিলনায়তনে (৩য় তলা) বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি) কেন্দ্রীয় কমিটি আয়োজিত 'বাংলাদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমাল, ধর্মীয় উপাসনালয়, সম্পদ, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে রাষ্ট্রের করণীয়' শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব দাবি জানান।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বিএসপি যে উদ্যোগটা নিয়েছে, সেটা আগামী দিনে আমাদের সনাতন সমাজকে পথ দেখাবে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আট দফা দিয়েছি, উনি বলেছেন দেখবেন। আজকে ছয় মাস হয়ে গেছে কিন্তু একটাও আলোর মুখ দেখেনি। এইজন্য সরকারকে চাপে রাখতে হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আমি রেইনবো রাষ্ট্র ব্যবস্থা করব। রেইনবো বা রংধনু রাষ্ট্র ও সমাজ করবেন যেখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, আদিবাসী, নৃগোষ্ঠী এবং বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী ও সংশয়বাদী সবাই থাকবে। এটা বাংলাদেশের কোনো নেতা বা কোনো দল এভাবে কোনোদিন বলেনি। এটা সাহস করে উনি বলেছেন। নাস্তিক, অনাস্তিক এবং যারা মাঝামাঝি সংশয়বাদী রয়েছেন তারা বাংলাদেশে রাজনীতি করবে এইটা বাংলাদেশের মৌলবাদী গোষ্ঠী কোনোদিন মানেনি, কিন্তু এখন সবাই চুপ রয়েছে।
ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অ্যাটর্নি অফিসে প্রায় ৩০০ জনের মতো নিয়োগ দেওয়া হয়েছে (ডেপুটি এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল) কিন্তু সেখানে হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের কোনো প্রতিনিধি নেই। একইভাবে প্রায় ৫০ জনের বেশি বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেও দলীয় পরিচয়ের বাইরে কাউকে চিন্তা করা হয়নি। মুখে এক কথা বললেও কাজে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সুমন কুমার রায় বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সরকারি-বেসরকারি চাকরি থেকে অপসারণ বা চাকরিচ্যুতি, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নিয়োগ ও দায়িত্ব পালনে বৈষম্য, এবং ডিসি, এসপি, সচিবসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে প্রতিনিধিত্ব ও সুযোগের ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। রাষ্ট্রের সব নাগরিকের জন্য সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করা সংবিধানসম্মত দায়িত্ব।
মতবিনিময় সভায় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আরেক সদস্য শয়ান বালা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে একটি পৃথক ও কার্যকর সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনাগুলোর দ্রুত তদন্ত ও বিচার, ধর্মীয় উপাসনালয় ও শ্মশানের নিরাপত্তা, দখল ও হয়রানি বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
এমএসি/আরএফ
