চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদী দখলদারদের পক্ষে আইনজীবীদের অবস্থানের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ১০টি পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন। একই সঙ্গে নদীর তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে কর্ণফুলী নদীকে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন সংগঠনগুলোর নেতারা।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বেলা ১১টায় নগরের ফিরিঙ্গীবাজার ব্রিজঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, কর্ণফুলী নদী দখলদার জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় ও চট্টগ্রাম বন্দরের পক্ষে হাইকোর্টে অবস্থান নিয়ে জনস্বার্থে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। দখলদারদের পক্ষে এ ধরনের অবস্থান নদী দখল ও দূষণকে উৎসাহিত করছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
বক্তারা বলেন, কর্ণফুলী নদী দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ মাছবাজারসহ নদীর তীরের ২ হাজার ১৮১টি অবৈধ স্থাপনার মধ্যে জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ নোটিশে ১৪ নম্বর দখলদার ছাড়া অন্য স্থাপনাগুলো উচ্ছেদে কোনো আইনগত প্রতিবন্ধকতা নেই। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধনে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে কর্ণফুলী নদীর তীরের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, নদীর তীরকে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা এবং সেখানে দেশীয় প্রজাতির ফলজ ও ঔষধি গাছের বাগান সৃষ্টি করা।
এদিকে দখলদারদের পক্ষে আইনজীবীদের অবস্থান অব্যাহত থাকলে নৌ ধর্মঘটসহ প্রতীকী ‘কর্ণফুলী ভরাট’ কর্মসূচি দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
বক্তারা আরও বলেন, ২০১০ সালে হাইকোর্টে দায়ের করা রিট মামলা নম্বর ৬৩০৬/২০১০-এ দখলদারদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য শ ম রেজাউল করিম। পরে আপিল বিভাগে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মামলাটি পরিচালনা করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা ফজলে নূর তাপস। পরবর্তী সময়ে দখলদারদের দায়ের করা রিট মামলা নম্বর ৭২০/২০২১ ও ২৪০২/২০২৩-এ আইনজীবী ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা ও তৎকালীন বার কাউন্সিল সদস্য সাঈদ রাজা।
তাদের দাবি, ওই তিন মামলায় দখলদাররা পরাজিত হয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের আদেশ বহাল থাকে। এরপর একই গ্রাউন্ডে দায়ের করা রিট মামলায় মাহাবুব উদ্দিন খোকন, বদরুদ্দোজা বাদল ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ আইনজীবী হিসেবে লড়ছেন। বক্তারা এ অবস্থানকে দেশের স্বার্থবিরোধী বলে মন্তব্য করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সংগঠনগুলো হলো চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন, বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম, কর্ণফুলী সুরক্ষা পরিষদ, সৃষ্টি, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন, কর্ণফুলী নদী হস্তচালিত বড় সাম্পান সমিতি, বাংলাদেশ জাহাজি শ্রমিক ফেডারেশন, রেজাউল করিম সিকদার ফাউন্ডেশন এবং ইউনাইটেড সোশ্যাল নেটওয়ার্ক উৎস।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান চিকিৎসক মাহফুজুর রহমান।
কর্মসূচীতে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন, চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি সাংবাদিক চৌধুরী ফরিদ, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আলীউর রহমান, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক মনিরা পারভিন রুবা, বাংলাদেশ জাহাজি শ্রমিক ফেডারেশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এম. নুরুল হুদা চৌধুরী, বিপ্লবী তারেকশ্বর দস্তিদার স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও পরিবেশকর্মী ইঞ্জিনিয়ার সিঞ্চন ভৌমিক, সাংবাদিক ও পরিবেশকর্মী রোজী চৌধুরী, কর্ণফুলী হস্তচালিত বড় সাম্পান সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হক এবং কর্ণফুলী নদী জেলে সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি সুমন দাশসহ অন্যরা।
সভাপতির বক্তব্যে চিকিৎসক মাহফুজুর রহমান বলেন, আগে জানতাম কর্ণফুলী নদীর সব দখলদার আওয়ামী লীগ। এখন দেখছি সবাই বিএনপি হয়ে গেছে। দেশের স্বার্থ লুট ও পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংসে লুটেরারা ক্ষমতার ছায়ায় থাকে এটাই তার বড় প্রমাণ।
এমআর/আরএফ
