চট্টগ্রামের আনোয়ারায় আত্মীয়ের বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে ফিরে ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে ছেলের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়েছেন এক মা। গতকাল (শুক্রবার) দিবাগত রাতে উপজেলার বরুমচড়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও নিহতের পরিবারের দাবি– ‘এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’।
নিহত ওই যুবকের নাম মো. সাকিব (২৫)। তিনি উপজেলার বরুমচড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নলদিয়া এলাকার বাসিন্দা ইউনুসের ছেলে। খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা-পুলিশ বসতঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার রাতে সাকিবের মা-সহ পরিবারের সবাই এক আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াতে গিয়েছিলেন। এ সময় সাকিব ঘরে একাই ছিলেন। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে দাওয়াত শেষে পরিবারের সদস্যরা বাসায় ফেরেন। এ সময় তারা ঘরের ভেতর সিলিংয়ের সঙ্গে সাকিবকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
এদিকে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা মানতে নারাজ নিহতের পরিবার। সাকিবের মামা মো. নেজাম উদ্দিনের দাবি, মরদেহ উদ্ধারের সময় নিহতের পায়ের অবস্থান ও পারিপার্শ্বিক আলামত অত্যন্ত সন্দেহজনক ছিল। এটি পরিকল্পিত কোনো হত্যাকাণ্ড হতে পারে। অপরাধ ধামাচাপা দিতেই আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে পরিবারটি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন (রিপোর্ট) পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমআর/বিআরইউ
