বিজ্ঞাপন

বাঁশখালীতে ঈদে মিলাদুন্নবীর মিছিলে বাধার অভিযোগ

বাঁশখালীতে ঈদে মিলাদুন্নবীর মিছিলে বাধার অভিযোগ

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে বের করা জশনে জুলুসের মিছিলে বাধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কওমি মাদরাসা ও সুন্নি জনতার মধ্যস্থতায় এগিয়ে এসেছে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন।

শনিবার (২২ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বাঁশখালী পৌরসভার ভাদালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার শেষ প্রান্তে সরল ইউনিয়নের সংযোগস্থলে ঈদে মিলাদুন্নবীর মিছিল বের করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সুন্নি আলেম-ওলামা ও সাধারণ জনতা। আশেপাশের এলাকা থেকে অটোরিকশা, পিকআপ ও জিপ যোগে কয়েকশ মানুষ মিছিলের জন্য জড়ো হতে থাকেন। মিছিল শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে স্থানীয় একটি কওমি মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় কওমিপন্থীরা এতে আপত্তি জানান। তাদের দাবি ছিল, মাদরাসার সামনের সড়ক দিয়ে কোনো জুলুস বা মিছিল অতিক্রম করতে দেওয়া হবে না।

এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আরও সুন্নি অনুসারীরা ঘটনাস্থলে এসে জড়ো হতে শুরু করেন। সংঘর্ষের ভয়ে মুহূর্তের মধ্যে ভাদালিয়া বাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে কওমিপন্থীরা মাদরাসার সামনে এবং জুলুসে অংশগ্রহণকারীরা পাশের একটি পুকুরপাড়ে অবস্থান নিয়ে মুখোমুখি হন।

সংবাদ পেয়ে বাঁশখালী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দু-পক্ষের মাঝে অবস্থান নেয় এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা জোরদার করে।

বাঁশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধাংশু শেখর হালদার বলেন, ‘ঈদে মিলাদুন্নবীর মিছিল বের করাকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে পুরোনো বিরোধের জেরে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আমরা অত্যন্ত সতর্কতা ও দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। আপাতত অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটতে দেওয়া হয়নি।’

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্য ও ক্ষোভ নিরসনে আগামীকাল (রোববার) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পুলিশের উপস্থিতিতে একটি সুনির্দিষ্ট বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। আশা করছি, আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে।’ 

এমআর/এসএএস