চারদিনের ব্যবধানে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান পরিচালনা করে অপ্রচলিত মাদক কুশের পৃথক দুটি চালান জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এতে মোট ৭ কেজি ১৮০ গ্রাম কুশ উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ গতকাল শনিবারের অভিযানে ৩ কেজি কুশসহ এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে ডিএনসি।
তবে গত ১৮ আগস্ট বিমানবন্দরে ৪ কেজি ১৮০ গ্রাম কুশ রেখে পালিয়ে যায় দুই ভারতীয় নাগরিক।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (উত্তর) এর সহকারী পরিচালক ড. মো: আবু সাঈদ মিয়া জানান, শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে বিমানবন্দরের নিচতলায় আগমনী হলের গ্রিন চ্যানেল থেকে ৩ কেজি কুশসহ ভারতীয় নাগরিক হুসাইন আবদুল কাদের শেখকে (৪৮) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ভারতের কর্ণাটকের বাসিন্দা।
তিনি অভিযান সম্পর্কে বলেন, একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার দুপুর ২টার দিকে বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেলে অবস্থান নেয় ডিএনসির ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) একটি দল। এ সময় ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২১ ফ্লাইটে আসা ভারতীয় নাগরিক হুসাইন আবদুল কাদের শেখকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে উপস্থিত স্বাক্ষী ও বিমানবন্দরের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সামনে তার ট্রাভেল ট্রলি ব্যাগে তল্লাশি চালানো হয়। ব্যাগে কাপড়ের নিচে কৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় তিন কেজি কুশ উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে তার কাছ থেকে ৩ কেজি কুশ ছাড়াও একটি ভারতীয় পাসপোর্ট, একটি বোর্ডিং কার্ড, একটি রিয়েলমি নারজো ৩০ মডেলের স্মার্টফোন, ৪০০ মার্কিন ডলার, থাইল্যান্ডের ১ হাজার ৫৫০ বাত, ৪০০ ভারতীয় রুপি এবং একটি নির্বাচন কমিশনের পরিচয়পত্র জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের বরাতে বিমানবন্দর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করা ড. মো. আবু সাঈদ মিয়া বলেন, আটক হুসাইন আব্দুল কাদের জানিয়েছেন, বাংলাদেশে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশে তার থাকার ব্যবস্থা এবং মাদক চোরাকারবারে সহযোগিতা করার কথা ছিল। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদক চোরাকারবারের সঙ্গে স্থানীয় কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর চার দিন আগে একই বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেলে কুশের আরেকটি বড় চালান উদ্ধারের ঘটনা ঘটে।
ওই অভিযানের বিবরণ দিয়ে আবু সাঈদ মিয়া বলেন, গত ১৮ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসির একই টিম বিমানবন্দরে অবস্থান নেয়। ওই সময় ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের একই টিজি-৩২১ ফ্লাইটে আসা দুই ভারতীয় নাগরিক আকাশ দুবে (২৮) ও আকাশ পান্ডে (৩৪) দুটি ট্রাভেল ট্রলি ও ভারতীয় পাসপোর্টের ফটোকপি রেখে পালিয়ে যান।
পরে ট্রলিগুলোতে তল্লাশি চালিয়ে ৪ কেজি ১৮০ গ্রাম কুশ উদ্ধার করা হয়। তাদের ফেলে যাওয়া দুটি ভারতীয় পাসপোর্টের ফটোকপিও জব্দ করা হয়। ডিএনসি বলছে, ওই দুই ব্যক্তি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার গন্ডালপাড়ার বাসিন্দা।
ডিএনসি'র সহকারী পরিচালক আবু সাঈদ মিয়া বলেন, দুটি ঘটনাতেই মাদক পরিবহনে একই ধরনের রুট ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এসেছে। দুই চালানই ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের একই ফ্লাইটে ঢাকায় আসে এবং দুটিই বিমানবন্দরের আগমনী হলের গ্রিন চ্যানেলকে কেন্দ্র করে ধরা পড়ে। প্রথম ঘটনায় দুই ভারতীয় নাগরিক মাদকভর্তি ট্রলি ফেলে পালিয়ে গেলেও দ্বিতীয় ঘটনায় একজনকে মাদকসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উভয় ঘটনায়ই বিমানবন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় পৃথক মামলা হয়েছে। অপরদিকে ১৮ আগস্টের ঘটনায় পলাতক আকাশ দুবে ও আকাশ পান্ডেকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
কুশ গাঁজা জাতীয় একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও অপ্রচলিত মাদক। গাঁজার কুঁড়ির সঙ্গে অতিরিক্ত রাসায়নিক ও টেট্রাহাইড্রো ক্যানাবিনল (টিএইচসি) মিশিয়ে এটি তৈরি করা হয়। সাধারণ গাঁজা বা ইয়াবার চেয়ে এর আসক্তি ও ক্ষতিকর প্রভাব অনেক বেশি তীব্র হয়।
এটি মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্রকে মারাত্মকভাবে উদ্দীপিত ও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর নেশা দীর্ঘস্থায়ী ও অত্যন্ত তীব্র হয়। পশ্চিমা বিশ্বে এটি আগে জনপ্রিয় হলেও বর্তমানে বাংলাদেশেও এর অপব্যবহার হচ্ছে।
জেইউ/এমটিআই
