চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানা এলাকায় প্রেমের সম্পর্কের বিয়ের মাত্র চার মাসের মাথায় তানজিনা আক্তার (২২) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে নিহতের মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যান তার স্বামী মো. আকাশ (২৬)।
নিহত তানজিনা আক্তার খুলশীর ঝাউতলা টিকিট প্রিন্টিং প্রেস কলোনি এলাকার মো. শাহ আলমের মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী মো. আকাশ গাইবান্ধা জেলার বাসিন্দা।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় ও জমানো অর্থ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই ব্যবসা সম্প্রসারণের কথা বলে তানজিনাকে তার পরিবার থেকে মোটা অঙ্কের টাকা এনে দেওয়ার জন্য নানাভাবে চাপ দিয়ে আসতেন আকাশ। টাকা না আনলে প্রায়ই তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।
ঘটনার দিন সকালে ঝাউতলা টিকিট প্রিন্টিং প্রেস কলোনি মসজিদের পাশের একটি বাসা থেকে তানজিনার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেন তার স্বামী আকাশ। পরে নিজেই মরদেহটি চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান এবং হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে রেখে পালিয়ে যান।
নিহতের বড় ভাই মো. আব্দুর রহিম অভিযোগ করে ঢাকা পোস্টকে বলেন, তিন-চার মাস আগে পরিবারের অমতে আমাদের বোনকে বিয়ে করেছিল আকাশ। বিয়ের পর থেকেই ও ব্যবসার টাকার জন্য তানজিনাকে সব সময় চাপ দিত এবং মারধর করত। এটা কোনোভাবেই আত্মহত্যা হতে পারে না। তানজিনাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে খুলশী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনোতোষ বিশ্বাস ঢাকা পোস্টকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হাসপাতালে এসেছে। নিহতের স্বামী নিজেই হাসপাতালে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে আসে। মৃত্যু নিশ্চিত হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নিহতের স্বামী আকাশ পলাতক রয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এমআর/এসএএস
