বিজ্ঞাপন

সৌদিতে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন, ৫১ পাসপোর্টসহ ৫ পাচারকারী গ্রেপ্তার

সৌদিতে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন, ৫১ পাসপোর্টসহ ৫ পাচারকারী গ্রেপ্তার

সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় মাসিক ২ হাজার ৫০০ রিয়াল বেতনে চাকরির শতভাগ নিশ্চয়তার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এই তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- মো. শামীম (৪০), মো. রুহুল আমিন (২৪), মো. হৃদয় হাসান (২৬), আবু রায়হান (২৯) ও মো. সানি মিয়া (২৫)।

তিনি বলেন, সিআইডির মানবপাচার শাখার (টিএইচবি) একটি দল রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর বনানী থানাধীন সৈনিক ক্লাব এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫১টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, তিনটি স্মার্টফোন ও কয়েকটি রেজিস্টার উদ্ধার করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অনলাইন বিজ্ঞাপনে সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় মাসিক ২ হাজার ৫০০ রিয়াল বেতনে চাকরির শতভাগ নিশ্চয়তার কথা বলা হয়। বিজ্ঞাপনে দেওয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের পর ভুক্তভোগীকে বনানীর সৈনিক ক্লাব এলাকার একটি অফিসে যেতে বলা হয়।

পরে সৌদি আরবের একটি কোম্পানিতে ড্রাইভিং ভিসায় চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীর সঙ্গে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার চুক্তি করা হয়। বিদেশ যাওয়ার আগেই পুরো টাকা পরিশোধের কথা বলে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক ও নগদের মাধ্যমে তার কাছ থেকে ২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়।

তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ড্রাইভিং ভিসা না দিয়ে ভুক্তভোগীকে সৌদি আরবের ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়া হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি বনানী থানায় মামলা করেন।

সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, একই কায়দায় বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে আরও কয়েকজনের কাছ থেকে প্রায় ১৯ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। বিদেশে কর্মসংস্থানের আকর্ষণীয় প্রস্তাব ও অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তির পাসপোর্ট সংগ্রহ করে নিজেদের হেফাজতে রাখত তারা।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান আরও বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থান, অভিবাসন বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ বা পাসপোর্ট হস্তান্তর করা উচিত নয়। বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার অনুমোদিত ও বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যথাযথভাবে যাচাই করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ভিসা পাইয়ে দেওয়ার নামে অস্বাভাবিক অঙ্কের অর্থ দাবি, পাসপোর্ট জিম্মি করে রাখা, ভিসা জালিয়াতি, মানবপাচার কিংবা অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহ হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা সিআইডিকে জানাতে হবে।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির মানবপাচার শাখা। গ্রেপ্তারকৃতদের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি, পলাতক আসামি, চক্রটির দেশি-বিদেশি সহযোগী এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এসএএ/জেডএস

বিজ্ঞাপন