বিজ্ঞাপন

শাড়ির নিচে কুশ-মদ নিয়ে শাহজালাল বিমানবন্দরে, গ্রেপ্তার দুই ভারতীয়

শাড়ির নিচে কুশ-মদ নিয়ে শাহজালাল বিমানবন্দরে, গ্রেপ্তার দুই ভারতীয়

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভারতীয় শাড়ির আড়ালে লুকিয়ে আনা ৫ কেজি ৪০ গ্রাম কুশ ও ৩ লিটার বিদেশি মদসহ দুই ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ২৪ পিস ভারতীয় শাড়ি ও চারটি স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা সানাওয়ার আলী (৩৬) ও ইমতিয়াজ আহমেদ (৩৬)।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিমানবন্দরের নিচতলায় আগমনী হলের গ্রিন চ্যানেলে তাদের আটক করা হয়।

ডিএনসির ঢাকা মেট্রো (উত্তর) ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ড. মো. আবু সাঈদ মিয়া বলেন, ডিএনসির ঢাকা মেট্রো (উত্তর) এর একটি বিশেষ দল সোমবার ১টার দিকে গ্রিন চ্যানেলে অবস্থান নেয়। এ সময় ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২১ ফ্লাইটে আসা দুই ভারতীয় নাগরিককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।

পরে উপস্থিত সাক্ষী ও বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের সামনে তাদের ট্রাভেল ট্রলি তল্লাশি করা হয়। এ সময় কাপড়ের নিচে কৌশলে লুকানো অবস্থায় ৫ কেজি ৪০ গ্রাম কুশ উদ্ধার করা হয়।

ডিএনসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা আলামতের মধ্যে আরও রয়েছে তিন লিটার বিদেশি মদ, ২৪ পিস ভারতীয় শাড়ি, দুটি ভারতীয় পাসপোর্ট, দুটি বোর্ডিং কার্ড ও চারটি স্মার্টফোন। এ ছাড়া তাদের কাছ থেকে ৪০০ মার্কিন ডলার, থাইল্যান্ডের ১ হাজার ১৭০ বাথ ও ভারতীয় ১ হাজার ১৭০ রুপি জব্দ করা হয়েছে।

তিনি জানান, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়েছে। ডিএনসির ঢাকা মেট্রো (উত্তর) বিমানবন্দর সার্কেলের পরিদর্শক শাহরিয়া শারমিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন বাংলাদেশিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।

কুশ হলো গাঁজা জাতীয় একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও অপ্রচলিত মাদক। গাঁজার কুঁড়ির সঙ্গে অতিরিক্ত রাসায়নিক ও টেট্রাহাইড্রো ক্যানাবিনল (টিএইচসি) মিশিয়ে এটি তৈরি করা হয়। সাধারণ গাঁজা বা ইয়াবার চেয়ে এর আসক্তি ও ক্ষতিকর প্রভাব অনেক বেশি তীব্র হয়।

এটি মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্রকে মারাত্মকভাবে উদ্দীপিত ও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর নেশা দীর্ঘস্থায়ী ও অত্যন্ত তীব্র হয়। পশ্চিমা বিশ্বে এটি আগে জনপ্রিয় হলেও বর্তমানে বাংলাদেশেও এর অপব্যবহার হচ্ছে।

জেইউ/এমটিআই

বিজ্ঞাপন