বিজ্ঞাপন

বাবুবাজার-বাদামতলীতে অবৈধ দখল উচ্ছেদে ডিএমপির অভিযান

বাবুবাজার-বাদামতলীতে অবৈধ দখল উচ্ছেদে ডিএমপির অভিযান

রাজধানীর বাবুবাজার এবং বাদামতলী এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা মেট্রো পলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক লালবাগ বিভাগ। অভিযানে ভাসমান দোকান, অবৈধ পার্কিং ও বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানে ২১টি মামলা ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফুটপাত দখল করে ভাতের হোটেল পরিচালনার অভিযোগে এক দোকানদারকেও আটক করা হয়।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত বাবুবাজার ব্রিজের নিচের বাদামতলী এলাকা থেকে ওয়াইজঘাট পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে বাবুবাজার ব্রিজের নিচে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ইজারা বাতিল করা চারটি ব্লকের অবৈধ ভাসমান দোকান, স্থাপনা ও অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে বাদামতলী থেকে ওয়াইজঘাট পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে গড়ে ওঠা অবৈধ পার্কিং, স্থাপনা এবং রাস্তার ওপর বসানো ফলের দোকানসহ সড়ক ও ফুটপাত দখল করে থাকা বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়।

এর আগে মঙ্গলবার একই এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে ট্রাফিক লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মফিজুল ইসলাম ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার এহসানুল কামরান তানভীর উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কোতোয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি ট্রাফিক) একেএম মনজুরুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অভিযানে অংশ নেন।

অভিযান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে ট্রাফিক লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, অভিযানে ট্রাকসহ অন্যান্য অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ২১টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় আনুমানিক লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে একটি দোকানের মালিককেও আটক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মূলত অবৈধ পার্কিং ও সড়ক অবরোধের কারণে এসব মামলা করা হয়েছে। এসব যানবাহনের এখানে থাকার কথা নয়। কমিশনারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভারী যানবাহন চলাচলের নিয়ম রয়েছে। রাত ১০টার পর এসব যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে এবং সকাল ৮টার মধ্যে বের হয়ে যেতে হবে। নির্ধারিত সময়ের বাইরে কোনো যানবাহন পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বাবুবাজার ব্রিজ এলাকায় যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি ব্রিজে ওঠা ও নামার জন্য থাকা দুটি সিঁড়ির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব সিঁড়ি ব্যবহার করে যাত্রীরা ব্রিজের ওপর ওঠানামা করেন এবং বাসে ওঠা-নামাও করেন। ফলে সেখানে যানজট তৈরি হয়। তবে সিঁড়ি দুটি বন্ধ করা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে আরও পর্যালোচনা প্রয়োজন। সিঁড়ি দিয়ে নামলে মানুষ সহজেই পাশের মিটফোর্ড হাসপাতালে যেতে পারেন।

দোকানপাট উচ্ছেদের বিষয়ে তিনি বলেন, রাস্তার ওপর কোনো দোকান বসতে দেওয়া হবে না। অনেক ক্ষেত্রে ট্রাককে ভ্রাম্যমাণ দোকান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ট্রাক রাস্তার ওপর রেখে পেছনের অংশ খুলে সেখানে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এতে দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তা দখল হয়ে থাকে এবং যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। তাই ব্যবসায়ীদের রাস্তা ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে।

ট্রাফিক লালবাগ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এসএম

বিজ্ঞাপন