বাল্যবিবাহকে বৈধতা দেওয়ার পক্ষে বক্তব্য এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কাজ করা ব্যক্তিদের হুঁশিয়ার করার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি ও গার্লস নট ব্রাইডস বাংলাদেশ।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি ও গার্লস নট ব্রাইডস বাংলাদেশের যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম, সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির পক্ষে ডা. ফওজিয়া মোসলেম এবং গার্লস নট ব্রাইডসের পক্ষে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি ভিডিওতে নিজেদের ‘ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র জনতা’ হিসেবে পরিচয়দানকারী একটি দলকে বাল্যবিবাহ বন্ধে কাজ করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি এবং বাল্যবিবাহের বৈধতার পক্ষে বক্তব্য দিতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনগুলো।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অমান্য করে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা ধর্মীয় পরিচয়ধারী সংগঠন নিজস্ব ব্যাখ্যার মাধ্যমে বাল্যবিবাহকে বৈধ ঘোষণা করতে পারে না। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী, মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং ছেলেদের ২১ বছর। একই আইনে বাল্যবিবাহ আয়োজন, সম্পাদন, সহায়তা ও নিবন্ধনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধকারীদের হুঁশিয়ার করার মাধ্যমে ওই দলটি শুধু আইনবিরোধী বক্তব্য দেয়নি, বরং মেয়েশিশুর অধিকার, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় কাজ করা সংগঠনগুলোকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সমাজে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। এ ধরনের দাবি বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও রাষ্ট্রের দায়িত্বের পাশাপাশি সংবিধান এবং স্বীকৃত মানবাধিকার নীতিমালারও পরিপন্থি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওটির বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনগুলো।
/এমএইচএন/এমএসএ
