ঢাকার ধামরাইয়ে চুরির অপবাদে শংকর চন্দ্র মন্ডল (২৮) নামে এক দিনমজুরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মো. ওয়াজেদ হাজীকে (৫০) কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত রাতে কক্সবাজার সদর থানার কলাতলী ডলফিন মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে র্যাব-৪ ও র্যাব-১৫-এর যৌথ দল তাকে গ্রেপ্তার করে।
বৃহস্পতিবার র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, নিহত শংকর চন্দ্র মন্ডল ধামরাইয়ের পশ্চিম কায়েতপাড়া এলাকায় দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গ্রেপ্তার ওয়াজেদ হাজী ওই এলাকায় একটি রাইস মিল ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করতেন। কিছুদিন আগে তার রাইস মিল থেকে একটি বৈদ্যুতিক পানির পাম্প চুরি হয়। ওই ঘটনায় শংকরকে সন্দেহ করেন ওয়াজেদ।
তিনি বলেন, গত ৮ আগস্ট রাতে শংকরের বাবা দুই প্রতিবেশীকে সঙ্গে নিয়ে ওয়াজেদের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে শংকরকে বিভিন্ন অজুহাতে আটকে রেখে তার বাবাকে চলে যেতে বলা হয়। পরে দুই প্রতিবেশীকেও চা খাওয়ানোর কথা বলে বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এরপর ওয়াজেদ তার কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে শংকরকে কার্যালয়ের ভেতরে আটকে রাখেন। পাম্প চুরির অপবাদ দিয়ে তার হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে শংকর গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত হলে তার দুই প্রতিবেশীকে ডেকে এনে তাদের মাধ্যমে তাকে বাড়িতে পাঠানো হয়।
অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় শংকরের পরিবার ওই রাতে তাকে হাসপাতালে নিতে পারেনি। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৯ আগস্ট ভোরে তাকে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। কিন্তু অর্থাভাবে পরিবার তাকে সেখানে নিতে পারেনি। পরে বাড়িতেই তার চিকিৎসা চলতে থাকে।
র্যাব জানায়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ আগস্ট ভোরে নিজ বাড়িতে মারা যান শংকর। খবর পেয়ে ধামরাই থানা পুলিশ তার বাড়িতে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে পাঠায়। এ ঘটনায় শংকরের বাবা বাদী হয়ে ধামরাই থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার পরপরই র্যাবের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে ছায়া তদন্ত শুরু করে।
তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওয়াজেদের অবস্থান কক্সবাজারে শনাক্ত করা হয়। পরে র্যাব-৪ ও র্যাব-১৫-এর যৌথ দল কলাতলী ডলফিন মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে।
জেইউ/আরএফ
