রাজধানীর সবুজবাগের বাসাবো কালভার্ট রোডের ময়লাযুক্ত স্থান থেকে খণ্ডিত এক নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সাহিদা নামের এক নারীসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার রহস্য উদঘাটন হলেও নিহত সুরাইয়া আক্তার ফালানির শরীরের বাকি অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সেগুলো উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এ ঘটনায় হওয়া মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট দিবাগত রাতে সবুজবাগের বাগানবাড়ি এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবনে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। গ্রেপ্তার সাহিদাসহ পাঁচজন মিলে ওই নারীকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন। পরে চাপাতি দিয়ে ফালানির মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করা হয়। গুমের উদ্দেশ্যে খণ্ডিত মরদেহের অংশগুলো বাসাবো কালভার্ট এলাকার বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়। সেখান থেকে বিচ্ছিন্ন দুই হাত ও মস্তক উদ্ধার করা হলেও মরদেহের বাকি অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ৯ জনকে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে সাহিদা ও কবির নামে দুইজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, নিহত সুরাইয়া আক্তার ফালানিসহ গ্রেপ্তার সবাই পরস্পরের পরিচিত। তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং মাদকাসক্ত। তারা একসঙ্গে মাদক সেবনও করতেন। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া সাহিদার বক্তব্য অনুযায়ী, সাহিদার স্বামীর সঙ্গে নিহত ফালানির অবৈধ সম্পর্কের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে ওই ব্যক্তি সাহিদার স্বামী নাকি বয়ফ্রেন্ড, সেটাও যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। এ ছাড়া খণ্ডিত দেহের বাকি অংশ স্রোতের কারণে নদীর সঙ্গে সংযুক্ত স্থানে চলে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সেগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সবুজবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, মস্তক ও দুই হাত বাহু থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া নারীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত নারীর দেহের বাকি অংশ গলা থেকে বুক পর্যন্ত ও দুই পা—উদ্ধারের অভিযান ও তল্লাশি এখনও চলছে।
এমএসি/আরএফ
