ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার বলেছেন, সমাজে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ইমাম ও আলেম-ওলামাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের মাঝে সত্য, ন্যায়, সততা ও তাকওয়ার শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে ইমামদের আরো কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) চট্টগ্রাম ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির মিলনায়তনে আলেম-ওলামা, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
পবিত্র কোরআনের আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাজে বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব রয়েছে। সামাজিক নেতৃত্ব, কর্মক্ষেত্রের নেতৃত্ব এবং নৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্ব যার প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানুষের সামনে আদর্শ স্থাপন করা জরুরি। ইমামরা যেহেতু ধর্মীয় ও নৈতিক নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন, তাই তাদের আচরণ, বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড মানুষের জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত থাকতে হবে।
আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে চোখ, কান, চিন্তা ও বিবেকসহ অসংখ্য নিয়ামত দিয়েছেন। অথচ মানুষ এসব নিয়ামতের যথাযথ শুকরিয়া আদায় করতে পারে না। আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়াও ঈমানি দায়িত্বের অংশ।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ইমামদের শুধু নামাজের ইমাম হলেই হবে না; তাদের মুত্তাকিদের ইমাম হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এজন্য নিজেদের জীবনেও তাকওয়া, সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও আমল প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মানুষকে দ্বীনের পথে আহ্বান করতে হলে হিকমত ও প্রজ্ঞার সঙ্গে কথা বলতে হবে। আল্লাহ ও তার রাসুলের নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি মানুষের বাস্তবতা বুঝে সুন্দর ও যুক্তিসংগতভাবে ইসলামের শিক্ষা মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে।
ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির অবকাঠামো ও ভূমির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির অব্যবহৃত জায়গাগুলো কেন কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়নি, তার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করে এসব জায়গাকে জনকল্যাণমূলক ও প্রশিক্ষণমূলক কাজে ব্যবহার করা সম্ভব কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে। চট্টগ্রাম ও এর আশপাশের অঞ্চলের হজযাত্রীদের প্রয়োজনীয় আবাসন, প্রশিক্ষণ সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই জায়গাটিকে আরো কার্যকরভাবে ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। এই বিষয় সংশ্লিষ্টদের নিয়ে পর্যালোচনা করে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
সীমাবদ্ধতাকে শক্তিতে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকট ও সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। ফলে সরকারের সামনে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে এসব সীমাবদ্ধতাকে দুর্বলতা হিসেবে না দেখে শক্তিতে পরিণত করে জনগণের কল্যাণে সর্বোচ্চ কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের সম্পদ ও সুযোগ সীমিত,কিন্তু মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তাই বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে, অপচয় ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে হবে।
আলেম-ওলামা ও ইমামদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের একার পক্ষে সমাজের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য রাষ্ট্র, সমাজ, আলেম-ওলামা, ইমাম এবং সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমাদের সীমাবদ্ধতাগুলোকে শক্তিতে পরিণত করে আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা যেন সবচেয়ে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারি,এটাই আমাদের লক্ষ্য।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি সুন্দর ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয়; মানুষের নৈতিক ও চারিত্রিক উন্নয়নও প্রয়োজন। আর এই জায়গায় ইমাম ও আলেম-ওলামাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।তিনি বলেন, মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়, এটি মানুষের নৈতিক ও সামাজিক শিক্ষারও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ইমামদের খুতবা, ওয়াজ ও ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাজে মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, অন্যায়, অসততা ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করা সম্ভব।
মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি না করে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে। ধর্মীয় জ্ঞানকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।
চট্টগ্রাম বিভাগের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোস্তফা মনসুর আলম খাঁনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী আলেম-ওলেমারা উপস্থিত ছিলেন।
জেডএস
