বিজ্ঞাপন

গাড়ি থেকে নামিয়ে প্রধান শিক্ষককে হেনস্তার অভিযোগ

গাড়ি থেকে নামিয়ে প্রধান শিক্ষককে হেনস্তার অভিযোগ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মিল্টন বিকাশ দাশকে প্রকাশ্যে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা তসলিম উদ্দিন ও তার ছোট ভাই মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে। 

অভিযুক্ত তসলিম উদ্দিন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য এবং ধর্মপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তার ছোট ভাই মহিউদ্দিনও ইউনিয়ন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

প্রধান শিক্ষক মিল্টন বিকাশ দাশ বলেন, আমি গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে বাড়ি থেকে অটোরিকশায় বিদ্যালয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে ফকিরপাড়ার প্রবেশপথে বিএনপি নেতা তসলিম ও তার ছোট ভাই মহিউদ্দিন দলবল নিয়ে অটোরিকশাটি থাকায়। এরপর তারা আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে প্রথমে মোবাইল কেড়ে নেয়। এরপর এডহক কমিটি গঠন সংক্রান্ত একটি ফাইল তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য আমাকে হেনস্তা করেন। ওই সময় বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক এবং কর্মচারী এগিয়ে এলে তারা শান্ত হন এবং আমার সঙ্গে অফিসে যান। খবর পেয়ে কিছু অভিভাবক ও স্থানীয়রা মিলে বিদ্যালয়ে এলে ধস্তাধস্তি হয়। এরপর পুলিশ আসার পর আমি এক প্রকার বাধ্য হয়ে ফাইলটি তাদের হাতে তুলে দিয়েছি।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হতে হলে স্নাতক পাস হতে হবে। কিন্তু তাদের দেওয়া ৩ জনের তালিকার মধ্যে একজনের শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট দেননি। আমি উনাদেরকে বার বার অনুরোধ করার পরেও তারা সেটি না দিয়ে উল্টো আমাকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ফাইলটি উপজেলায় পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। আমি তাদের কাছে মাথা নত করিনি বলে আমাকে হেনস্তা করা হয়েছে৷ ইতোমধ্যে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা তসলিম উদ্দিন বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত আসার পর আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি আবদুল ওহাবকে সভাপতি করার জন্য সুপারিশ করেছেন। কিন্তু মিল্টন বিকাশ স্যার এমপির কথা মানবেন না এবং বিএনপি পরিবারকে স্কুলে ঢুকতে দিবেন না বলে জানান। আমরা ভালো মানুষের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করে শিক্ষার মানোন্নয়ন করতে চাই।

তসলিম উদ্দিনের ছোট ভাই মহিউদ্দিন বলেন, প্রধান শিক্ষক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন। তার কাছ থেকে কেউ ফাইল ছিনিয়ে নেয়নি এবং খারাপ ব্যবহারও করেনি। আমরা অফিসে গেলে তিনি বিভিন্ন অজুহাতে ফাইলটি দিতেও অস্বীকৃতি জানান। পরে পুলিশ এসে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে তার বাসা থেকে ফাইলটি এনে ইউএনও অফিসে পাঠানো হয়।

সাতকানিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুন বলেন, সেদিন খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয়ে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেছিলাম।

উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আশীষ বরণ দেব বলেন, বিষয়টি আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। মূলত এডহক কমিটি গঠন সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি'র আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া বলেন, সুশিক্ষিত জাতি গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রধান শিক্ষককে প্রকাশ্যে হেনস্তার বিষয়টি যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে ওই শিক্ষকের আইনের আশ্রয় নেওয়া উচিত। আর এখন যেহেতু সেখানে বিএনপির কমিটি নেই তাই আমরা সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নিতে পারছি না।

আতিকুল হা-মীম/এমএসএ