দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছে সরকার। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, দেশের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতকে বেগবান করতে সরকার এখন থেকে ক্লাস্টারভিত্তিক অ্যাপ্রোচে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে ২২টি শীর্ষ ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে এ তথ্য জানান অর্থ উপদেষ্টা। বৈঠকে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ক্ষমতাচ্যুত বিগত সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে বর্তমান সরকার এক গভীর জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট উপহার পেয়েছে। বিগত সরকার একটি চরম আমদানি নির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল, যেখানে কোনো ধরনের টেকসই উন্নয়নের ছাপ ছিল না। এই বিপুল বৈষম্য ও ভুল নীতি থেকে বেরিয়ে এসে আগামী দিনে সংকট কাটাতে বিকল্প হিসেবে দ্রুত সৌরবিদ্যুতের দিকে রূপান্তর নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পরিকল্পনা তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের সৌরবিদ্যুৎ খাত থেকে অতিরিক্ত ৫ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে জাতীয় অর্থনীতিতে বিদ্যুৎ খাতের ওপর চাপ কমে আসবে এবং এই খাতে সরকারকে প্রতি বছর যে বিশাল অঙ্কের বিপুল ভর্তুকি দিতে হয়, তা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করা সম্ভব হবে।
দেশের বেকারত্ব দূরীকরণ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর উল্লেখ করেন, বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশে ১ কোটিরও বেশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা ও সক্ষমতা বিবেচনা করে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তাদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করবে। বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন ফাউন্ডেশনগুলোর এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এসআর/জেডএস
