বিজ্ঞাপন

সভাপতির পদ বনাম সংবিধান সংশোধন কমিটি, সংসদে সরকার-বিরোধী দল মুখোমুখি

সভাপতির পদ বনাম সংবিধান সংশোধন কমিটি, সংসদে সরকার-বিরোধী দল মুখোমুখি

সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বণ্টন নিয়ে জাতীয় সংসদে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। 

বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো কমিটির সভাপতির পদ পাওয়ার শর্তে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তাদের কোনো সম্মতি হয়নি। বরং নীতিগতভাবেই তারা ওই কমিটিতে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 

অন্যদিকে, চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের সহযোগিতা চান তারা। এ নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তাপ ছড়ায়। একই অধিবেশনে থার্ড টার্মিনালে অতিরিক্ত ৯০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ, ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পট নিয়ে মহাপরিকল্পনা, সরকারের কার্যক্রমের গতি এবং ই-কমার্সে গ্রাহকদের আটকে থাকা বিপুল অর্থ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিয়ে সংসদে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। 

অধিবেশনের প্রথম অংশে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। বিরতির পর অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হওয়া অধিবেশন শেষ হয় রাত সোয়া ৮টায়।

জাতীয় সংসস অধিবেশনে মাগরিবের বিরতীর পরে সংসদীয় কমিটি পুনগঠন কার্যক্রম শুরু হয়। এসময় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, স্পিকার কমিটি গঠন কার্যক্রমের আগে বিরোধী দলীয় উপনেতাকে কিছু বলার সুযোগ দিন, ওনারা সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ্রহণের লক্ষ্যে কমিটির সদস্যদের নাম দিকে সম্মত হয়েছেন। এরপরেই বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরকে মাইক দেওয়া হয়। 

এসময় তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটিন সভাপতি পদ বিরোধী দলের সদস্যদে মধ্য থেকে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কমিটিতে নাম দেওয়ার বিষয়ে সম্মতির কথা বলিনি। এরপরে ফ্লোর নিয়ে বিরোদী দলের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এখন আপনারা সবই জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে চাইবেন, অথচ সনদ বাস্তবায়নের জন্য সহযোগিতায় আসবেন না। দুইটা বিপরীতমুখী হয়ে যায়।’

বক্তব্যের শুরুতে চিফ হুইপ বলেন, বিরোধী দলীয় উপনেতার সঙ্গে কথা হয়েছে। ওনারা সংবিধান সংশোদন কমিটিতি নাম দিবেন। তাকে ফ্লোর দেওয়ার অনুরোধ করেন চিফ হুইপ।

এরপরে বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ  আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, সংসদে আমাদের সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী আমরা ২৬ শতাংশ স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য পদ পাচ্ছি। একইভাবে আমাদের প্রত্যাশা ছিল, কমিটিগুলোর সভাপতিরও ২৬ শতাংশ বিরোধী দল থেকে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো মন্ত্রণালয়ের কমিটিতে বিরোধী দল থেকে সভাপতি করা হয়নি।

চিফ হুইপের সঙ্গে ফোনালাপের প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্পষ্ট করেন, সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে আমরা যাব এবং সেই হিসেবে আপনি আমাদের সভাপতি দেবেন, এমন কথা আমরা কখনোই বলিনি। আমাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলো, আমরা সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশগ্রহণ করব না। একটি কমিটিতে জয়েন করানোর জন্য শর্ত আরোপ করে জোর জবরদস্তি করার ট্র্যাডিশন আমরা সঠিক মনে করি না।
অতীত সংসদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, অতীতে তো স্পিকারকে পিটিয়ে মারা হয়েছে, ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলী সাহেবকে হত্যা করা হয়েছে, জুতা ছোড়াছুড়ি হয়েছে। আমরা সেই কালো ইতিহাসে ফিরে যেতে চাই না। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন এটা জনগণের সংসদ, তাই বৈষম্যবিরোধী এই সংসদে আমরা আমাদের অধিকার চাই।

চিফ হুইপ জানান, বিরোধী দলের উপনেতার সঙ্গে ফোনালাপের ভিত্তিতে তিনি আশা করেছিলেন বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন কমিটিতে থাকবে।

চিফ হুইপ বলেন, বিগত ৫৪-৫৫ বছরে বিরোধী দল থেকে কোনো কমিটির (পাবলিক অ্যাকাউন্টস বাদে) সভাপতি করার রেওয়াজ নেই। তারপরও আমরা আনুপাতিক হারে বিরোধী দলকে ১০টি কমিটির সভাপতি পদ দিতে রাজি আছি। কিন্তু আমাদের কথা ছিল, সংবিধান সংশোধন করেই আমরা ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন করব। উনারা যদি সেই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন, তবে আমরা পদ দিতে রাজি আছি। আমরা কোনো কিছু আটকে রাখতে চাই না।

এরপর ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে বিরোধীদলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এখন আপনারা সবই জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে চাইবেন, অথচ সনদ বাস্তবায়নের জন্য সহযোগিতায় আসবেন না। দুইটা বিপরীতমুখী হয়ে যায়।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্পিকার নির্বাচনের আগে একটি ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতাদের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কথা প্রসঙ্গে আমাদের কথা উঠলে প্রধানমন্ত্রী বললেন, আমরা এখন থেকেই জুলাই জাতীয় বাস্তবায়ন শুরু করি। চলুন, আপনি ডেপুটি স্পিকারের একজনের নাম দিন। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার একজন, ডেপুটি স্পিকার একজন। সেই ডেপুটি স্পিকার আমরা বিরোধী দলকেই অফার করেছি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন হবে ততদিন আমরা অপেক্ষা করিনি।’ তবে বিরোধী দল তখন ডেপুটি স্পিকারের পদ নিতে রাজি হয়নি বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘তখন আমরা ভাবলাম, জুলাই জাতীয় সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে, অর্থাৎ সংবিধান সংশোধিত হলে সেই অনুযায়ী আমরা যাব। আমরা আমাদের উদারতা এবং আমাদের উইলিংনেস জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সংবিধান সংশোধনের আগে থেকেই ব্যক্ত করেছি।’

সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সেজন্য আমরা সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি আন্ডার রুলস ২২৬ আমরা গঠন করেছি। পাঁচজন সদস্যের জায়গা রাখা হয়েছে বিরোধী দলের জন্য।’

তিনি বলেন, সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল অন্যান্য রাজনৈতিক দল, স্বতন্ত্র সদস্যসহ বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিত্বও কমিটিতে রাখা হয়েছে। বিরোধী দল নীতিগতভাবে কমিটিতে না আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা তাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত হতেই পারে। যদি সংবিধান সংশোধিত না হয়, জুলাই জাতীয় সনদ তো বাস্তবায়িত হলো না। হওয়ার পরে হবে। আমরা কাজ শুরু করেছি, সেই কমিটি গঠিত হয়েছে।’

তিনি জানান, তার সভাপতিত্বে কমিটির একটি বৈঠক ইতোমধ্যে হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে কমিটি প্রতিবেদন তৈরি করবে।

তিনি বলেন, ‘এভাবে আমরা সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলব। তাদের মতামতের ভিত্তিতে আমরা রিপোর্টটা প্রণয়ন করব।’

পরে আইন মন্ত্রণালয় ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের বিল সংসদে উপস্থাপন করা হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদকে সামনে রেখে, জুলাই জাতীয় সনদের বাইরেও সমাজের প্রত্যাশা অনুযায়ী, আমাদের নির্বাচন ইশতেহার অনুযায়ী এবং জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আর যাদের সঙ্গে আমরা কথা বলব, তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সবকিছু ধারণ করে আমরা একটা সমৃদ্ধ সংবিধান সংশোধনী বিল আনবো।’

বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে আসুন। আপনাদের যা বক্তব্য আছে, আমরা সেটা লিপিবদ্ধ করব। আপনাদের সমস্ত রিপোর্ট, বক্তব্য সেই রিপোর্টে থাকবে। আপনাদের বক্তব্য জাতি জানবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের সকল দাবি মানতে হবে, তারপরও আমরা আপনাদের এই সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে আসবো না, এটা সহযোগিতা হলো না। আপনারা সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে আসুন। আপনাদের যখনই অংশগ্রহণ করবেন, আমরা স্বাগত জানাব। তখন জুলাই জাতীয় সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হবে। তার আগ পর্যন্ত বিদ্যমান বিধান অনুসারে আমরা যাই।

সবশেষে বিরোধী দলের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আপনারা সবই জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে চাইবেন, অথচ সনদ বাস্তবায়নের জন্য সহযোগিতায় আসবেন না। দুইটা বিপরীতমুখী হয়ে যায়।

বিলিয়ন ডলারের সম্পদ সচল করতে থার্ড টার্মিনালে অতিরিক্ত ৯০০ কোটি টাকা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণে অতিরিক্ত ৯০০ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের যৌক্তিকতা জাতীয় সংসদে তুলে ধরেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বিরোধীদলের সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ প্রশ্ন করেন, আন্তর্জাতিক টার্মিনালের প্রাক্কলিত ব্যয় ১৩ হাজার কোটি টাকা থেকে কয়েক দফা বৃদ্ধি পেয়ে ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকায় পৌঁছায়। সেখানে মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) দপ্তর তদন্ত করে প্রায় ৪ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকার অনিয়ম শনাক্ত করেছে এবং ঠিকাদারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের সুপারিশ করা সত্ত্বেও কাজের প্রায় ৯৯.৯১ শতাংশ শেষ হওয়ার পর শেষ মুহূর্তে পুনরায় ৯০২ কোটি টাকা বৃদ্ধি করা ঠিকাদারকে দুর্নীতির সুযোগ করে দেওয়ার শামিল কি-না?

জবাবে বিমানমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে শুধুমাত্র ভবন উদ্বোধন করেই কাজ শেষ বলে চালিয়ে দেওয়ার একটা প্রবণতা ছিল। কিন্তু বাস্তবে থার্ড টার্মিনালের মেশিনারিজ ও প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সংকেত বা সংযোজন সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পূর্ণ অসম্পূর্ণ অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল। টার্মিনালে প্রায় ২.১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রাষ্ট্রীয় সম্পদ পড়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এরফলে সরকার একদিকে এটি ব্যবহার করতে পারছিল না, অন্যদিকে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার কাছ থেকে নেওয়া ঋণের বড় অংকের কিস্তি ইতোমধ্যে পরিশোধ করা শুরু হলেও অবকাঠামো সচল না থাকায় কোনো আয় হচ্ছিল না।

মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সার্বিক হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করে দেখেছে যে, কাজ চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন করা, ঠিকাদারের পূর্বে থাকা কিছু বকেয়া পরিশোধ এবং অন্যান্য সংস্থার বকেয়া মিটিয়ে অবকাঠামো চালুর জন্য স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই ৯০২ কোটি টাকার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এই অর্থ অনুমোদন দেওয়া না হলে সুবিশাল টার্মিনালটি পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়ে থাকত, যা জাতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতো। অতিরিক্ত এই বরাদ্দ অনুমোদন হলে খুব দ্রুতই টার্মিনালটি চালু করা সম্ভব হবে এবং বর্তমান ১.২ মিলিয়ন যাত্রীর জায়গায় দ্বিগুণ যাত্রী সেবা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়ে জাইকার ঋণ সহজেই পরিশোধ করা যাবে। 

অপর এক সম্পূরক প্রশ্নে বিমানের অতিরিক্ত ভাড়া ও টিকিট কালোবাজারি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান ভাড়া হঠাৎ ৬ হাজার টাকা থেকে লাফিয়ে দ্বিগুণ বা ১২ হাজার টাকায় পৌঁছে যায়, যা যাত্রীসাধারণের জন্য মারাত্মক অসহনীয় ও অস্বাভাবিক।

জবাবে বিমানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে কারণ কোনো সাধারণ ওয়ান-ওয়ে টিকিটের দাম কখনো ১২ হাজার টাকা স্পর্শ করেনি। সাধারণত রিটার্ন টিকিটের দাম বা বিশেষ ট্যাক্সসহ খরচ হিসাব করলে এটি সাময়িকভাবে বেড়ে যায়। কোনো কোনো সময় টিকিটের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে শেষ মুহূর্তে একশ্রেণীর অসাধু চক্র টিকেট কালোবাজারির অপচেষ্টা চালায়। কালোবাজারি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে সরকার দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং যাত্রীরা ভবিষ্যতে কখনই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে টিকিট কিনবেন না।

১৪৯৮টি স্পট নিয়ে চূড়ান্ত হচ্ছে সমন্বিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতে এবং দেশের সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে সুপরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যাপক কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। ইতোমধ্যে ‘জাতীয় পর্যটন নীতিমালা ২০২৬’ প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সারা দেশের সম্ভাব্য প্রায় ১৪৯৮টি পর্যটন স্থান চিহ্নিত করে একটি যুগোপযোগী ও সমন্বিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, দেশে পর্যটন খাতের সঠিক তথ্যের ঘাটতি দূর করা এবং সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট’ প্রণয়নের কার্যক্রমও বর্তমানে চলমান রয়েছে।

পর্যটন কেন্দ্রগুলোর সার্বিক বিকাশে স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, স্থানীয় জনসাধারণকে সরাসরি যুক্ত করে ‘কমিউনিটি বেজড ট্যুরিজম’ মডেলে পর্যটন স্পটগুলোর পর্যায়ক্রমিক উন্নয়নের কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ভ্রমণে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে বিশেষায়িত ট্যুরিস্ট পুলিশের জনবল ও কাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

‘ইন্টেরিম সাত দিনে পারে, আমাদের সরকার ছয় মাসেও পারে না কেন?’

‘ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট যদি একদিন বা সাত দিনে পারে, তাহলে আমাদের সরকারের ছয় মাস অতিবাহিত হচ্ছে, এই প্রক্রিয়া সহজীকরণ করতে আর কতদিন লাগবে?’ জাতীয় সংসদে এমন প্রশ্ন তুলেছেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন। শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজীকরণের দাবি জানিয়ে ৭১বিধিতে দেওয়া নোটিশে তিনি জানতে চান, সরকার এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে আর কত সময় নেবে? 

জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী আবদুল মঈন খান বলেন, জনগণের স্বার্থে বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে আইন ও বিধি অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।

এ সময় স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী, ছয় মাস চলে গেল, আর কয় মাস লাগবে?’

সম্পূরক প্রশ্ন করার সুযোগ পেয়ে সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন বলেন, গত ১৭ থেকে ২০ বছরে অনেক শিক্ষিত যুবক বেকার হয়ে পড়েছেন। তাদের কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ‘ইন্টেরিম গভমেন্ট যদি এটাকে একদিন বা সাত দিনে পারে, তাহলে আমাদের বর্তমান সরকারের ছয় মাস অতিবাহিত হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া সহজীকরণ করা উচিত বলে আমি মনে করি।’

এরপর ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী, ছয় মাস চলে গেল, আর কয় মাস লাগবে?’

পরে জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় চিফ হুইপ স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আইনমন্ত্রীকে নোটিশের বিষয়ে আরও বলার সুযোগ চান। জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ভালো কাজ করতে গেলে অনেক সময় একটু সময় লাগে। আইন অনুসরণ করতে হয়, নিয়ম-কানুনের ভিতর দিয়ে যেতে হয়। তাড়াহুড়ো করে আমরা যদি কোনও আইনের ব্যত্যয় করি, তাহলে কিন্তু আমরা এই দেশবাসীর কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকব।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলসকে যুগোপযোগী করে এই সমস্ত সিন্ডিকেট এবং সিন্ডিকেটের যে ব্যারিকেড দেওয়া আছে, সবগুলো ভাঙার জন্য’ কাজ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করে একটি খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। অচিরেই সেইটা পার্লামেন্টের সামনে আসবে। আসলে আমরা ডিউ প্রসেসে এই সিন্ডিকেট ভাঙার ব্যবস্থা করব বলে আশা করছি, ইনশাআল্লাহ। আমরা খুব অতি দ্রুতই ওই সিন্ডিকেট ভাঙার যে আইন, আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা এটা মোকাবিলা করব।’

ই-কমার্সে গ্রাহকের পাওনা হাজার হাজার কোটি টাকা

দেশের ই-কমার্স খাত ধারণার চেয়েও দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি গ্রাহক প্রতারণা ও অনিয়মের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। এই অবস্থায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর জালিয়াতি বন্ধ করতে এবং সমস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে একটি জবাবদিহিমূলক আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে তিন ধাপের নীতিগত পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধি অনুসারে জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ তথ্য জানান। 

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ই-কমার্স খাতের শৃংখলা ফেরাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা প্রণয়ন, ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা এবং ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি নিবন্ধন নির্দেশিকা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন শুরু করেছে। বিগত সময়ে দেশের বিভিন্ন বহুল আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের সাথে বিপুল অঙ্কের আর্থিক কেলেঙ্কারী ঘটায়। এর মধ্যে ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, কিউকম, ধামাকা শপিং এবং আলেশা মার্ট সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে বিপুল সংখ্যক অভিযোগ জমা পড়েছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, প্রতারিত গ্রাহকরা বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অধিদপ্তরে এ পর্যন্ত সর্বমোট ৫৮ হাজার ৭২০টি অভিযোগ দাখিল করেছেন। ভুক্তভোগী গ্রাহক ও বিক্রেতাদের দাখিলকৃত এসব লিখিত অভিযোগের বিপরীতে দাবিকৃত মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ডিজিটাল বাণিজ্য সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং গ্রাহকদের পাওনা অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়া তদারকি করতে সক্রিয় কাজ করে যাচ্ছে।

‘ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না’, সংসদে প্রশ্ন

শতভাগ ই-নামজারি ও অনলাইনে খাজনা দেওয়ার ব্যবস্থা চালুর পরও সাবরেজিস্ট্রি ও ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না; এমন অভিযোগ বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বলে সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ। তিনি বলেন, এসব দুর্নীতিবাজ তহসিলদারের বিরুদ্ধে কবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভুয়া দলিলের মাধ্যমে খাসজমি ও সংখ্যালঘুদের জমি দখলের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালীদের তালিকা কবে প্রকাশ করা হবে?

জবাবে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘ভূমি মন্ত্রণালয় হতে ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি জারিকৃত পরিপত্র অনুযায়ী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তার কার্যক্রম সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার।’

চাহিদা অনুযায়ী সারের কোনো ঘাটতি নেই : কৃষিমন্ত্রী

চাহিদা অনুযায়ী সারের কোনো ঘাটতি নেই জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কৃষকদের সঠিকভাবে সার সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নীতিমালা অনুযায়ী সার সরবরাহ-ব্যবস্থা পরিচালনা করা হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা-২ সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন প্রশ্ন রেখে বলেন, বর্তমানে দেশে সারের চাহিদার পরিমাণ কত; চাহিদা অনুযায়ী ঘাটতি আছে কি না; থাকলে তা কী এবং কৃষকদের সঠিকভাবে সার সরবরাহ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে কি না?

জবাবে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, চাহিদা অনুযায়ী সারের কোনো ঘাটতি নেই। কৃষকদের সঠিকভাবে সার সরবরাহ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে নীতিমালা অনুযায়ী সার সরবরাহ-ব্যবস্থা পরিচালনা করা হচ্ছে। কৃষকদের কাছে সঠিক সময়ে, সঠিক পরিমাণে এবং নির্ধারিত মূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সার বিতরণ কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে নিবিড় মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অঞ্চল, জেলা ও গুদামভিত্তিক চাহিদা, বরাদ্দ ও মজুত পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। কোনো এলাকায় চাহিদার তুলনায় মজুত কম পরিলক্ষিত হলে প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য গুদাম/অঞ্চল হতে সার সরবরাহের মাধ্যমে ঘাটতি সমন্বয় করা হয়।

বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত ৩১ প্রজাতির বন্যপ্রাণী, হালনাগাদ হচ্ছে রেড লিস্ট

চোরা শিকার, বন উজাড়, নগরায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ থেকে গত কয়েকশ বছরে ৩১ প্রজাতির বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বিলুপ্ত প্রজাতির মধ্যে রয়েছে ১১টি স্তন্যপায়ী, ১৯টি পাখি ও একটি সরীসৃপ। বন্যপ্রাণীর ক্রমবর্ধমান এই সংকটের মধ্যে দেশের প্রাণিকূলের অবস্থা নতুন করে মূল্যায়নে ২০২৬ সালে রেড লিস্ট হালনাগাদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। একইসঙ্গে গঠন করা হয়েছে বন্যপ্রাণী কমিশন।

কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের লিখিত জবাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এসব তথ্য জানান।

মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যমতে, আইইউসিএন-এর ২০১৫ সালের জরিপে দেখা যায়, কয়েকশ বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশ থেকে ৩১ প্রজাতির বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি স্তন্যপায়ী, ১৯টি পাখি এবং একটি সরীসৃপ।

তিনি বলেন, চোরা শিকার, বন উজাড়, নগরায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী বন্যপ্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। বন্যপ্রাণীর প্রধান আবাসস্থল বনভূমি হওয়ায় বনাঞ্চল কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক প্রজাতি দেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

এমএসআই/এমএসএ