ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার অন্যতম বাহন সাংবাদিকরা। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সাহসিকতার সঙ্গে কলম ধরার পাশাপাশি গণতন্ত্রকে যারা ব্যাহত করার চেষ্টা করছে, তাদের বিষয়েও সাংবাদিকদের বলিষ্ঠভাবে কথা বলতে হবে।
রোববার (৩০ আগস্ট) পিআইবির অডিটরিয়ামে সাংবাদিক আবদুস সালাম স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। পিআইবির প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক এবং পাকিস্তান অবজারভার ও বাংলাদেশ অবজারভারের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক ও ভাষা সৈনিক সাংবাদিক আবদুস সালামের ১১৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রতিটি সেক্টরেই আলোকবর্তিকার মতো কিছু মহাপুরুষের জন্ম দেন আল্লাহ। তারা বাতিঘর হিসেবে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে আলো জ্বালিয়ে রাখেন। বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক আব্দুস সালামও তেমন একজন। তিনি পিআইবির জন্মদাতা। তাকে অনুসরণ করে দেশে অনেক সাংবাদিকের জন্ম হয়েছে।
গত ১৭ বছরে সাংবাদিকতার অবক্ষয় হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, কিছু মানুষ নিজেদের সুযোগ-সুবিধার জন্য সাংবাদিকতার সম্মান ক্ষুণ্ন করেছেন। তবে সমাজ ও জাতির প্রয়োজনে রুখে দাঁড়ানো সাংবাদিকদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, যারা এখনো সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কলম ধরে রেখেছেন, তাঁদের ধন্যবাদ জানাতে হয়।
গণতন্ত্রের ইতিহাস তুলে ধরে আবদুস সালাম বলেন, ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালে গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু একটি দেশে পাঁচ মাস বা পাঁচ বছরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পায় না; দীর্ঘদিনের চর্চার মধ্য দিয়ে তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরুর কয়েক মাসের মধ্যেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আন্দোলনের নামে এই যাত্রাপথে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে কি না, তা ভেবে দেখতে হবে। সাংবাদিকদেরও গণতন্ত্র ব্যাহত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সাহসের সঙ্গে কথা বলা উচিত।
আলোচনা সভায় পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক লোটন একরামের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, তথ্য ও সম্প্রচার এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা।
এএসএস/এমএসএ
