আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নানা আয়োজনে ২০তম বর্ষপূর্তি উদযাপন করেছেন বিসিএস প্রশাসনের ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তারা।
রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনে এ বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতি একটি কঠিন কাজ। আপনি যদি সারাজীবন একশটি ভালো কাজ করেন, মানুষ সেটি ভুলে যায়। কিন্তু ভুলক্রমে একটি খারাপ কাজ করলে, মানুষ তা জন্য সারাজীবন মনে রাখে।
তিনি বলেন, অনেক সময় সরকারি কর্মকর্তারা রাজনীতিবিদদের চেয়েও জনগণের জন্য অনেক কাজ করতে পারে। আমি রাজনীতির অঙ্গনে বাধ্য হয়ে এসেছি। আমি চেষ্টা করছি সবসময় সঠিক কাজটি করার।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার বলেন, গত ১৮ বছর আমলাতন্ত্রকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। আমাদের কর্মকর্তাকে আওয়ামী, বিএনপি, জামায়াত ট্যাগ লাগিয়ে দিয়ে আমাদের ধ্বংস করা হয়েছে। সরকারের পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের কর্মকর্তাদের ওপর একটা নির্যাতন শুরু হয়। আমরা তো চাকরি করতে এসেছি। ফুটপাতে ঘুরে বেড়াতে নয়। এই নির্যাতন পেতে কেউ চাকরিতে আসিনি।
তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই আমাদের মেধা ও শ্রম দিয়ে সব সরকারের সময় চাকরি করতে চেয়েছি। সরকার বিগত ১৮ বছর আমাদের প্রশাসনে বিভাজন সৃষ্টি করেছে। কিন্তু আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, সব কিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে হবে। আমরা সেভাবেই চেষ্টা করছি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক-১ নুরজাহান খানম বলেন, ২৫তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে যে পারস্পরিক বন্ধন, সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতা রয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দীর্ঘ কর্মজীবনের নানা ব্যস্ততা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও সহকর্মীদের প্রতি এই আন্তরিকতা ও বন্ধন অটুট থাকা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। আমার বিশ্বাস, এই বন্ধন ভবিষ্যতেও আরও দৃঢ় হবে এবং সবাই একে অন্যের পাশে থেকে পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে এগিয়ে যাবেন। ২৫তম বিসিএসের সব কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।
বিসিএস (প্রশাসন) ২৫তম ব্যাচের সভাপতি মো. সগীর হোসেন বলেন, ২৫তম বিসিএসের যেসব কর্মকর্তা এখনও বঞ্চিত রয়েছেন, তাদের বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে দ্রুত পদোন্নতির ব্যবস্থা করবে বলে আমরা আশা করি। আমরা একটি নিগৃহীত ব্যাচ হিসেবে বিভিন্নভাবে বঞ্চনার শিকার হয়েছি। দীর্ঘদিনের সেই বঞ্চনা সত্ত্বেও আমরা কখনো দায়িত্ব পালনে পিছপা হইনি। বরং রাষ্ট্র ও জনগণের প্রতি আমাদের দায়িত্ববোধ থেকে আমাদের প্রত্যেক কর্মকর্তা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, অতীতের বঞ্চনার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে যোগ্য ও বঞ্চিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে সরকার ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নেবে।
বিসিএস (প্রশাসন) ২৫তম ব্যাচের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। তারপরও আমরা আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে বিন্দুমাত্র পিছপা হইনি। সম্প্রতি আমাদের ব্যাচের বেশ কিছু কর্মকর্তার পদোন্নতি হলেও ১০৫ জন কর্মকর্তা এখনও পদোন্নতি পাননি। আমরা তাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে পদোন্নতির সুযোগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানাই। এর আগে ২০১৮ সালে উপসচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রেও আমরা বঞ্চিত হয়েছিলাম।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, গণপূর্ত সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিয়া, ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূইয়া ও বিসিএস ২৫ সহ বিভিন্ন ব্যাচের কর্মকর্তারা।
এমএম/এসএএস
