বিজ্ঞাপন

এমপির কাছে নালিশ দেওয়ায় পেটালেন যুবদল নেতা

এমপির কাছে নালিশ দেওয়ায় পেটালেন যুবদল নেতা

চট্টগ্রামের পটিয়ায় সংসদ সদস্যের (এমপি) কাছে নালিশ দেওয়ায় এক মুক্তিযোদ্ধার ছেলেকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন নসু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় আহত মিজানুর রহমান চট্টগ্রাম যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ (ষষ্ঠ) আদালতের বিচারকের গাড়িচালক।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ অমান্য করে গত ২৫ আগস্ট পটিয়া উপজেলার নাঈখাইন এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর সিদ্দিকের বাড়ির একাংশ ভেঙে সেখানে পাকা দেওয়াল নির্মাণ করেন যুবদল নেতা নসু। ঘটনার সময় ওই মুক্তিযোদ্ধা অসুস্থ থাকায় তার ছেলে মিজানসহ পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ছিলেন। 

পরে বাড়িতে ফিরে দেওয়াল নির্মাণের বিষয়টি দেখতে পেয়ে গত শুক্রবার মিজান পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনামকে বিষয়টি জানান। এ সময় এমপি তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। এতে যুবদল নেতা নসু আরও ক্ষুব্ধ হন বলে অভিযোগ মিজানের।

এর আগে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পটিয়া থানা পুলিশ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়।

আহত মিজানুর রহমানের অভিযোগ, ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় আদালতের আদেশ অমান্য করে তাদের ঘর ভেঙে ইট দিয়ে দেওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে এমপিকে জানানোর পর পটিয়া থানার ওসির সঙ্গে দেখা করে বাড়ি ফেরার পথে গত শুক্রবার রাতে তার ওপর হামলা চালানো হয়। 

হামলায় যুবদল নেতা নসুর সঙ্গে ফাদ্দিন হোসেন ও মোহাম্মদ জাবেদ নামে আরও দুজন অংশ নেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন থাকায় ঘটনায় এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি। এ ছাড়া গত শনিবার সকালে তাদের বাড়ির টিনের চাল কেটে নতুন করে জমি জবরদখল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন এই ভুক্তভোগী।

তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত যুবদল নেতা নাজমুল হোসেন নসু। তিনি দাবি করেন, আদালতের কোনো আদেশ অমান্য করে কিছু করা হয়নি এবং পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে প্রতিবেদন দিয়েছে। শুক্রবার রাতে মিজানের ওপর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি বলেও দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য, উল্টো মিজান তার নির্মাণাধীন ঘরের জন্য রাখা ২ টন রড চুরি করেছেন এবং এ ঘটনায় গত শুক্রবার রাতেই থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। মূলত প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতেই এই মিথ্যা অভিযোগ সাজানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এনএফ