চট্টগ্রামের ভূজপুরে ভক্ত সেজে মন্দিরে ঢুকে পিতলের ত্রিশূল ও দানবাক্স ভেঙে টাকা চুরির অভিযোগে নয়ন চন্দ্র নাথ ওরফে নয়ন দেবনাথ (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক এলাকা থেকে তাকে একটি খণ্ডিত ত্রিশূলসহ গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার (৩১ আগস্ট) সীতাকুণ্ড থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।
নয়ন কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থানার উত্তর কৈয়ারবীল এলাকার সুনীল চন্দ্র নাথের ছেলে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম নগরের উত্তর কাট্টলী এলাকায় বসবাস করেন।
পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের ভূজপুর থানাধীন গহিন পাহাড়ি এলাকার শ্রী শ্রী পাতাল কালী মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে। মন্দির থেকে একটি পিতলের ত্রিশূল এবং দানবাক্স ভেঙে আনুমানিক ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা চুরি করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, চুরির ঘটনার পর মন্দিরের লোকজন বিষয়টি পুলিশকে জানান। মন্দিরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তারা পুলিশের ওপর ক্ষোভও প্রকাশ করেন। পরে জেলা পুলিশের তদারকিতে চোর শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করা হয়। একপর্যায়ে রোববার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক এলাকা থেকে নয়ন চন্দ্র নাথকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে খণ্ডিত ত্রিশূল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নয়ন চন্দ্র নাথ চুরির কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তিনি ভক্ত হিসেবে মন্দিরে প্রবেশ করে সুযোগ বুঝে ত্রিশূল ও দানবাক্স ভেঙে টাকা চুরি করেন। এর আগেও তিনি একাধিক মন্দিরে চুরি করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মামলার বাদী শিমুল কুমার নাথ ঢাকা পোস্টকে বলেন, ত্রিশূলটি পিতলের তৈরি। এর বাজারমূল্য আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। রোববার দুপুরে ব্রাহ্মণ পূজা দিয়ে বের হওয়ার পর দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে চুরির ঘটনা ঘটে। পরে তারা ভূজপুর থানায় অভিযোগ দেন।
তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদারকি করেন। একপর্যায়ে চোর সীতাকুণ্ড থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়। তখন মামলা কোন থানায় করা হবে, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। কারণ এক জায়গা থেকে চুরি হয়েছে এবং অন্য থানা থেকে আসামি গ্রেপ্তার ও মালামাল উদ্ধার হয়েছে। শেষ পর্যন্ত দুই থানার ওসি সিদ্ধান্ত নিয়ে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করা হয়েছে।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, চুরির ঘটনার পর মন্দিরের লোকজন পুলিশের ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন। কিন্তু গ্রেপ্তারের পর শুরুতে তারা মামলা করতে রাজি হচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে পুলিশ জোরাজুরিতে মামলা করেন তারা।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।
এমআর/জেডএস
