রংপুরে জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সংগঠনটির নেতারা অংশ নেন।
কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি। এতে বক্তব্য দেন প্রাগ্রসরের নির্বাহী পরিচালক ফৌজিয়া খন্দকার ইভা, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সালমা আলী, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের সেলিনা পারভীন, ঢাকা ওয়াইডব্লিউসিএ অব বাংলাদেশের আহসান হাবীব, আইডির সঞ্চিতা তালুকদার এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মাকসুদা আক্তার লাইলী।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নারী, শিশু ও সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
বক্তারা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য দেশ নিরাপদ নয়- এমন নেতিবাচক ধারণা বিচারহীনতার কারণে ক্রমেই বিস্তার লাভ করছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে সপরিবারে হত্যার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর, তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা, ভয়ভীতি ও হয়রানির ঘটনা ঘটছে। একইভাবে সমাজের বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যেও ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে। মানুষকে বিভক্ত করা এবং ধর্মের নামে সমাজে বিভাজন তৈরি করা কোনো সুস্থ ও গণতান্ত্রিক সমাজের লক্ষণ নয়।
সাত দফা দাবি
১. ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত;
২. সব ধরনের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত;
৩. ঘটনায় জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে আইনের আওতায় আনা;
৪. সাম্প্রদায়িক উসকানি, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভয় সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা বন্ধ;
৫. নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ;
৬. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং
৭. তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক বা অন্য কোনো প্রভাব বরদাস্ত না করা।
জেইউ/আরএফ
