রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি কয়েক দিন ধরে দাঁড়িয়ে থাকা বাসগুলো পূর্বাচলের অস্থায়ী ডিপোতে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পূর্বাচলের ৩ নম্বর সেক্টরে বর্তমানে আংশিকভাবে ডিপোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেখানে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৫০টি বাস রাখা যাবে। পূর্ণাঙ্গভাবে নির্মাণ শেষ হলে ৬০০টি বাস রাখার সক্ষমতা তৈরি হবে।
এদিকে ফিটনেসের কাগজ থাকলেও বাস্তবে চলাচলের অনুপযোগী বাস রাজধানীর সড়কে চলতে দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আনিছুর রহমান।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মহাখালি বাস টার্মিনালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আনিছুর রহমান বলেন, রাজধানীতে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাপের বাস রাখা ও মেরামতের জন্য পর্যাপ্ত জায়গার সংকট ছিল। এ কারণে বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা পুরোপুরি সফল হয়নি।
তিনি বলেন, পূর্বাচলে ১০ একর জমি নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এর এক-তৃতীয়াংশের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। এই জায়গায় প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৫০টি বাস রাখা যাবে। পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হলে সেখানে প্রায় ৬০০টি বাস রাখার ব্যবস্থা হবে।
ট্রাফিক বিভাগের প্রধান বলেন, রাজধানীতে যেসব বাস ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা কিংবা দুই, চার বা পাঁচ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করে থাকত, সেগুলো পর্যায়ক্রমে পূর্বাচলের ডিপোতে চলে যাবে। সেখানে বাস মেরামত, সিট পরিবর্তন, রং করাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাজও করা যাবে।
তিনি বলেন, পূর্বাচলের ৩ নম্বর সেক্টরে আপাতত অস্থায়ীভাবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তবে ৬০০ বাস রাখার পূর্ণ সক্ষমতা তৈরি করতে আরও অন্তত তিন মাস সময় লাগতে পারে।
বাসমালিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, চালক ও শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে আনিছুর রহমান বলেন, ট্রাফিক বিভাগ এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। প্রতিটি সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আপনারা সরকারকে যে কথা দিয়েছেন, যে ওয়াদা করেছেন এবং আমাদের কাছে যে কমিটমেন্ট করেছেন, আসুন আমরা সবাই আমাদের সেই কমিটমেন্ট রক্ষা করি।’
উদ্যোগ বাস্তবায়নে মালিক ও শ্রমিকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, দেশে অনেক উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও কাজ করতে হয়। প্রয়োজন হলে আইন প্রয়োগের মাধ্যমেও উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।
রাজধানীতে ফিটনেসের কাগজ থাকা সত্ত্বেও জরাজীর্ণ ও চলাচলের অনুপযোগী বাসের বিরুদ্ধে ট্রাফিক বিভাগ ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানান আনিছুর রহমান।
তিনি বলেন, শুধু মামলা দিয়ে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কারণ বাস্তবে খারাপ অবস্থার গাড়ি আটক করে রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গাও নেই।
এ কারণে নতুন পদ্ধতিতে এসব গাড়ি সরাসরি নির্দিষ্ট গ্যারেজে পাঠানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আনিছুর রহমান বলেন, কোনো গাড়ির মালিক নিজ পছন্দের গ্যারেজে গাড়িটি নিতে পারবেন। তবে ট্রাফিক পুলিশ গাড়ির বর্তমান অবস্থার ছবি সংরক্ষণ করবে। গাড়িটি গ্যারেজে নেওয়া হয়েছে কি না এবং মেরামতের কাজ হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
মেরামত শেষে ট্রাফিক বিভাগের প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স নেওয়ার পরই ওই গাড়ি আবার সড়কে নামতে পারবে বলে জানান তিনি।
ট্রাফিক বিভাগের এই কর্মকর্তা বলেন, যেসব গাড়ির অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে গেছে, সেগুলো রাজধানীর সড়কে চলতে দেওয়া হবে না।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাসের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ২০ বছর এবং অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রে ২৫ বছর। মেয়াদ শেষ হওয়া কোনো গাড়ি রাস্তায় পাওয়া গেলে তা আটকের পর বিআরটিএর কাছে পাঠানো হবে।
এরপর বিআরটিএর স্ক্র্যাপ নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ প্রায় ৪০টি গাড়ি বিআরটিএর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি গাড়ি ইতোমধ্যে স্ক্র্যাপ নীতিমালার আওতায় স্ক্র্যাপ করা হয়েছে।
ফিটনেস সনদ থাকলেও যেসব গাড়ির বাস্তব অবস্থা অত্যন্ত খারাপ, রং উঠে গেছে বা চলাচলের জন্য অনুপযোগী এসব গাড়িকেও ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান আনিছুর রহমান।
তিনি বলেন, এসব গাড়ি আটকের পর পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় সরাসরি গ্যারেজে পাঠানো হবে। প্রয়োজনীয় মেরামত ও ক্লিয়ারেন্স ছাড়া কোনো গাড়িকে রাজধানীর সড়কে চলতে দেওয়া হবে না।
এসএএ/আরএফ
