চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি আরও বলেন, আগামী বছর থেকে রূপপুরের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পূর্ণমাত্রায় চালুর দিকে যাবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে দুই বছর সময় লাগবে, এমন বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘দুই বছর সময় লাগার অর্থ এই নয় যে, বর্তমান সংকট থেকে আগের অবস্থায় ফিরতে এত সময় লাগবে। বরং সাময়িক যান্ত্রিক ও সরবরাহজনিত সমস্যাগুলো সমাধান হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’
দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও স্থিতিশীল করতে সরকার একাধিক উদ্যোগ নিচ্ছে জানিয়ে তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘অল্টারনেটিভ এনার্জির মধ্যে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র এ মাসেই, মানে সেপ্টেম্বরেই একটি পরীক্ষামূলক লঞ্চিংয়ের আলাপ হয়েছে। আগামী বছর থেকে এটা ফুল স্কেলে লঞ্চিংয়ে যাবে। রূপপুর চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতায় বড় ধরনের সংযোজন হবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর চাপ কমবে বলে সরকারের প্রত্যাশা রয়েছে। এর পাশাপাশি গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো, এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি এবং নতুন অবকাঠামো তৈরির মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলার পরিকল্পনা রয়েছে।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে দুই বছরের সময়সীমার কথা ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকার নতুন একটি এফএসআরইউ আনছে। এর অর্ডার ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে এবং সেটি দেশে আসতে প্রায় দুই বছর সময় লাগবে। একই সময়ে গ্যাসের দেশীয় উৎস বাড়ানো এবং বিকল্প জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজও চলবে ‘
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানী লি. (বাপেক্স) ১৫০টি কূপ খনন ও পুনঃখননের কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়ে আসার জন্য ৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এসব উদ্যোগের সঙ্গে রূপপুরের পূর্ণমাত্রার উৎপাদন যুক্ত হলে আগামী দুই বছরে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘সব মিলিয়ে আমরা বলছি দুই বছর সময় লাগবে, তখন আমরা আগে যেটাকে ভালো বিদ্যুৎ বলতাম, তার চেয়ে অনেক ভালো বিদ্যুতে পৌঁছাব। তখন শহর এবং গ্রাম মিলিয়ে আমরা প্রায় আনইন্টারাপ্টেড বিদ্যুৎ দিতে পারব।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সরকার অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস দেখাতে চায় না বলে সতর্ক করেন উপদেষ্টা। এর অন্যতম কারণ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি।
তিনি বলেন, গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এলএনজির দাম প্রতি ইউনিটে ১২-১৩ ডলারের মতো থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে ২৪-২৫ ডলারে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে এলএনজির দাম ৩০ ডলারের ওপরে চলে যেতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি আমদানি ব্যয় বেড়ে গেলে বিদ্যুৎ খাতেও চাপ তৈরি হতে পারে বলে জানান তিনি। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে বিদ্যুৎ সরবরাহের বর্তমান সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা।
এসএইচআর/আরএফ
