উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী তিন দিন বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। একই সময়ে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলো বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পরিস্থিতি এবং পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী তিন দিন এসব নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।
আবহাওয়া সংস্থাসমূহের তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন দিন দেশের রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে মাঝারি-ভারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে সংশ্লিষ্ট নদ-নদীগুলোর পানি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা উপকূল এবং উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী তিন দিন এ নদ-নদীগুলোর পানি বাড়তে পারে। এরপরের দুই দিন পানি সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে।
অন্যদিকে গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীর পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী তিন দিন পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে। পরবর্তী দুই দিন পানি বাড়তে পারে। তবে এসব নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
পূর্বাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম বিভাগের মুহুরী নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। অন্যদিকে মাতামুহুরী নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। গোমতী, সেলোনিয়া, ফেনী, হালদা ও সাঙ্গু নদীর পানি কমেছে। আগামী এক দিন এসব নদীর পানি কমতে পারে এবং পরবর্তী দুই দিন আবার বাড়তে পারে।
মধ্যাঞ্চলীয় ময়মনসিংহ বিভাগের কংস নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। তবে জিঞ্জিরাম, সোমেশ্বরী ও ভুগাই নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী এক দিন এসব নদীর পানি কমতে পারে এবং পরবর্তী দুই দিন বাড়তে পারে।
এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদ-নদীর পানি কমেছে। আগামী দুই দিন পানি আরও কমতে পারে। তবে তৃতীয় দিনে এসব নদীর পানি আবার বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এমএইচএন/এসএম
