বিজ্ঞাপন

সাউথ বাংলা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আমজাদের সম্পদের হিসাব চায় দুদক

সাউথ বাংলা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আমজাদের সম্পদের হিসাব চায় দুদক

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এস এম আমজাদ হোসেনের সম্পদের হিসাব চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব তথ্য বলেন।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার নামে ৫৯ লাখ ৮৬ হাজার ২৫৬ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রে তার মালিকানাধীন একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের তথ্য পেয়েছে কমিশন। দেশে-বিদেশে তার আরও সম্পদ থাকার সম্ভাবনাও দেখছেন অনুসন্ধান কর্মকর্তারা। দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় আমজাদকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।  

দুদক জানায়, অনুসন্ধানে আমজাদের নামে ৩০ কোটি ৯৪ লাখ ১৮ হাজার ১৬০ টাকার স্থাবর সম্পদ পেয়েছে দুদক। তার অস্থাবর সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৮৯৩ টাকা। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তার নামে মোট ৩২ কোটি ৫৭ লাখ ৮৫ হাজার ৫৩ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য খাতে তার ব্যয় পাওয়া গেছে ১৩ কোটি ৫৭ লাখ ৯০ হাজার ৯৪৪ টাকা। সম্পদ ও ব্যয় মিলিয়ে তার মোট অর্জনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৬ কোটি ১৫ লাখ ৭৫ হাজার ৯৯৭ টাকা। এর বিপরীতে আমজাদের গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ৪৫ কোটি ৫৫ লাখ ৮৯ হাজার ৭৪১ টাকার। বাকি ৫৯ লাখ ৮৬ হাজার ২৫৬ টাকার সম্পদের গ্রহণযোগ্য উৎস পাওয়া যায়নি। এজন্য তার নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্যও যাচাই করতে চান অনুসন্ধান কর্মকর্তারা।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রে আমজাদের ব্যবসায় বিনিয়োগ রয়েছে আমজাদের। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও অনুসন্ধান করা হচ্ছে। দেশে ও বিদেশে তার আরও সম্পদ থাকার সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে তার সম্পদের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিতে চায় কমিশন।

আমজাদ হোসেন সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। ব্যাংকটি ২০১৩ সালে কার্যক্রম শুরু করে। ২০২১ সালে তিনি চেয়ারম্যানের পদ ছাড়েন। তার বিরুদ্ধে ২০২১ সালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

আরএম/এসএম

বিজ্ঞাপন