নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এনআইডি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে একই ব্যক্তির ৩টি ভিন্ন ও সচল এনআইডির বিষয়ে ঢাকা পোস্টে প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই নড়েচড়ে বসেছে কমিশন। সার্ভারের নিরাপত্তা ত্রুটি ও জালিয়াতিকে কাজে লাগিয়ে একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে প্রায় ৮২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার সংবাদের জেরে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন।
প্রতারণায় ব্যবহৃত এবং ইসির সার্ভারে সচল থাকা অভিযুক্ত মো. মেহেদী হাসানের ৩টি এনআইডিই ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার অন্তরালে নির্বাচন কমিশনের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (এনআইডি) অনুবিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি) এ এইচ এম আনোয়ার পাশা ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঢাকা পোস্টে সংবাদটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পরপরই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির সংশ্লিষ্ট ৩টি এনআইডিই তাৎক্ষণিকভাবে ব্লক করা হয়েছে, যেন এগুলো ব্যবহার করে নতুন করে আর কোনো জালিয়াতি করা না যায়।
তিনি আরও বলেন, দেশের আইন অনুযায়ী একই ব্যক্তির একাধিক সক্রিয় এনআইডি থাকার কোনো সুযোগ নেই। তাই এই জালিয়াতির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বা এনআইডি অনুবিভাগের ভেতরের কোনো অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত রয়েছেন কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ৩১ আগস্ট ঢাকা পোস্টে ‘১টি বা ২টি নয়, সার্ভারে সচল ৩ এনআইডি: ব্যাংকের ৮২ লাখ টাকা আত্মসাৎ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটিতে দেখানো হয়, কীভাবে রাষ্ট্রীয় ডাটাবেজের ভয়ংকর নিরাপত্তা ত্রুটি ও জালিয়াতিকে কাজে লাগিয়ে বেসরকারি একটি ব্যাংক থেকে প্রায় ৮২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। এনআইডি সার্ভারের দুর্বলতার সুযোগে জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ সুবিধা নিয়ে তা আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলার আবেদন করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত অভিযোগটি উত্তরা পশ্চিম থানায় এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন এবং ইসির কর্মকর্তাদের যোগসাজশ খতিয়ে দেখতে বলেন।
ঢাকা পোস্টের ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পরেই তাৎক্ষণিক এ ব্যবস্থা নিলো নির্বাচন কমিশন।
এনআর/এসএম
