রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিদেশি কোম্পানিকে শেয়ারবাজারের সেকেন্ডারি মার্কেটে সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ দিতে নতুন বিধিমালার খসড়া অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ ব্যবস্থায় কোম্পানিগুলো তাদের পরিশোধিত মূলধনের আকার অনুযায়ী অন্তত ১০ থেকে ২০ শতাংশ শেয়ার বাজারে ছাড়তে পারবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিএসইসির ওয়েবসাইটে সরাসরি তালিকাভুক্তি-সংক্রান্ত খসড়া বিধিমালা প্রকাশ করে অংশীজনের মতামত চাওয়া হয়। মতামত নেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত, বিদেশি ও বেসরকারি কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে সরাসরি তালিকাভুক্তির নিয়ম ও এর সুবিধাগুলো তুলে ধরবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার কয়েকটি কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করেছে বিএসইসি। কমিশনের চেয়ারম্যান মাসুদ খান গণমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সরাসরি তালিকাভুক্তির সুবিধা তুলে ধরে বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি একটি কোম্পানিকে সংকটকালেও টিকে থাকতে সহায়তা করে।
তার ভাষায়, কোনো বেসরকারি কোম্পানির উদ্যোক্তার মৃত্যু হলে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে উদ্যোক্তার মৃত্যু হলেও এর কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।
সরাসরি তালিকাভুক্তি (ডাইরেক্ট লিস্টিং) এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে কোনো কোম্পানি নতুন শেয়ার ইস্যু না করেই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারে। এতে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার বিক্রি করে অর্থ পাওয়ার বা তারল্য তৈরির সুযোগ থাকে। একই সঙ্গে নতুন শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মালিকানা হ্রাস এবং প্রচলিত আন্ডাররাইটিং ব্যয়ের মতো খরচও এড়ানো যায়। সাধারণত শক্তিশালী ব্র্যান্ড পরিচিতি ও প্রতিষ্ঠিত শেয়ারহোল্ডার কাঠামো থাকা কোম্পানির জন্য সরাসরি তালিকাভুক্তি বেশি উপযোগী।
যেসব শর্ত পূরণ করতে হবে
খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে শেয়ারবাজারে আসতে আগ্রহী কোনো কোম্পানির সর্বশেষ অর্থবছরে পরিচালন কার্যক্রম থেকে ইতিবাচক নগদ প্রবাহ থাকতে হবে। পাশাপাশি এর আগের টানা দুই অর্থবছরের প্রতিটিতে মূল ব্যবসা থেকে মুনাফা থাকতে হবে এবং কোনো সঞ্চিত লোকসান থাকা যাবে না। তবে কোনো কোম্পানিকে স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্তির জন্য সুপারিশ করলে এসব শর্ত শিথিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে খসড়ায়।
এ ছাড়া আবেদনকারী কোম্পানির আর্থিক বিবরণী বাংলাদেশে গৃহীত আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান (আইএফআরএস) অনুযায়ী প্রস্তুত করতে হবে। একইভাবে, বাংলাদেশে গৃহীত আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা মান (আইএসএ) অনুসারে কমিশন অনুমোদিত নিরীক্ষকদের তালিকাভুক্ত কোনো নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান দিয়ে আর্থিক বিবরণী নিরীক্ষা করাতে হবে।
কোনো কোম্পানির সরাসরি তালিকাভুক্তির আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জ তা যাচাই করবে। আবেদনে কোনো ঘাটতি থাকলে তা চিহ্নিত করে সংশোধন বা দূর করার জন্য কোম্পানিকে ১৫ দিনের মধ্যে জানাতে হবে।
এরপর স্টক এক্সচেঞ্জ আবেদনকারী কোম্পানির কারখানা, কার্যালয় ও অন্যান্য ব্যবসায়িক স্থাপনা পরিদর্শন করবে। সব শর্ত পূরণ হয়েছে বলে সন্তুষ্ট হলে সংশ্লিষ্ট এক্সচেঞ্জ ১৫ দিনের মধ্যে ইকুইটি সিকিউরিটিজ তালিকাভুক্তির অনুমোদনপত্র দেবে।
অন্যদিকে, কোনো কোম্পানি নির্ধারিত কোনো শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে আবেদন পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জ আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে কোম্পানিকে প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে আপিল করার অথবা আবেদন প্রত্যাহার করে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
যেভাবে শেয়ার লেনদেন হবে
খসড়া বিধিমালায় সরাসরি তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের পদ্ধতিও নির্ধারণ করা হয়েছে। তালিকাভুক্তির অনুমোদন পাওয়া কোম্পানি বিধিমালায় নির্ধারিত মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করে শেয়ারের একটি রেফারেন্স মূল্য নির্ধারণ করবে।
এরপর ওই রেফারেন্স মূল্যের চেয়ে অন্তত ২০ শতাংশ কম দামে একটি ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ করা হবে। এই দামের নিচে কোনো বিনিয়োগকারী শেয়ার কেনার প্রস্তাব দিতে পারবেন না।
প্রথম দিন লেনদেন শুরুর পর প্রথম ৩০ মিনিটে সাধারণ বিনিয়োগকারীসহ আগ্রহী ক্রেতাদের কাছ থেকে শেয়ারের দরপ্রস্তাব (বিড) সংগ্রহ করবেন স্টক ব্রোকাররা। এই ৩০ মিনিটকে বলা হবে ‘প্রাইস ডিসকভারি পিরিয়ড’।
প্রাইস ডিসকভারি পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর শেয়ার বিক্রেতারা বিক্রয়াদেশ দেওয়া শুরু করবেন। ক্রেতার দরপ্রস্তাব ও বিক্রেতার বিক্রয়াদেশের দর মিললে লেনদেন সম্পন্ন হবে। এভাবে দ্বিতীয় ট্রেডিং সেশন শেষ হওয়া পর্যন্ত লেনদেন চলবে।
যেসব বিনিয়োগকারী প্রথম সেশনের প্রথম ৩০ মিনিটের মধ্যে শেয়ার কেনার আদেশ দিতে পারবেন না, তারাও পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় সেশন শেষ হওয়া পর্যন্ত কেনার আদেশ দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
এমএমএইচ/আরএফ
