বিজ্ঞাপন

জামিনে বেরিয়ে ভাইয়ের হাত-পা কর্তন; পুলিশ না ধরায় ভাতিজাকে খুনের অভিযোগ

জামিনে বেরিয়ে ভাইয়ের হাত-পা কর্তন; পুলিশ না ধরায় ভাতিজাকে খুনের অভিযোগ

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের মামলার আসামি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান থানার কোলা ইউনিয়নের পূর্ব কোলাগ্রামের সিদ্দিক মোল্লা। গ্রেপ্তারের পর ছিলেন কারাগারে। জামিনে বেরিয়ে ২০২৫ সালের ৮ মার্চ পারিবারিক বিরোধের জেরে আপন বড়ভাই ইসহাক মোল্লাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ডান পা বিচ্ছিন্ন করেন। 

ভুক্তভোগী সেই ইসহাক মোল্লার করা মামলায় একদিনের জন্যও গ্রেপ্তার হয়নি আসামিরা। এমনকি পুলিশি অভিযোগপত্র থেকে মূল আসামিদের নাম বাদ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।

ভুক্তভোগীর স্বজনরা বলেন, এক বছর পর সেই একই জেরে গত ১৯ জুন আপন ভাতিজা ইলিয়াস মোল্লাকে কুপিয়ে হত্যা করে সিদ্দিক মোল্লা। 

ইলিয়াস মোল্লাকে যেদিন হত্যা করা হয় সেই একইদিনে ইসহাক মোল্লাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। এসময় ইসহাক মোল্লার ডান হাতের দুই আঙ্গুল কেটে নেয়। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম হয়। ইলিয়াস মোল্লা মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। তিনি দেশে এসে হত্যার শিকার হন। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়। আসামিরা গ্রেপ্তার হলে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন। 

বর্তমানে আসামিদের মধ্যে একজন জামিনে বেরিয়ে ফের হুমকি ধমকি দিচ্ছেন। যাতে মামলা তুলে নেওয়া হয়। নাহলে জামিনে বেরিয়ে হত্যার শিকার ইসহাক মোল্লার স্ত্রী ও ছেলে মেয়েদের ফের হত্যা করবেন। 

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন হত্যার শিকার প্রবাসী ইলিয়াস মোল্লার স্ত্রী লিপি বেগম। এসময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া খুনি ও সন্ত্রাসী সিদ্দিক মোল্লাসহ সন্ত্রাসীদের নির্মমতার শিকার হয়ে হাত-পা হারানো ইসহাক মোল্লাও উপস্থিত ছিলেন।

লিপি বেগম বলেন, চাচা-শ্বশুর ইসহাক মোল্লার সঙ্গে স্থানীয় সন্ত্রাসী সিদ্দিক মোল্লা, তার স্ত্রী রওশন আরা এবং তাদের দুই পুত্র বিপ্লব মোল্লা ও বিদ্যুৎ মোল্লার আগে থেকেই জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জের ধরে ২০২৫ সালে আমার চাচা-শ্বশুর ইসহাক মোল্লার ওপর সন্ত্রাসী সিদ্দিক মোল্লার পরিবার হামলা করে তার পা কেটে ফেলে এবং চিরতরে পঙ্গু করে ফেলে। 

তিনি বলেন, আমার স্বামী প্রবাসী ইলিয়াস মোল্লা চেয়েছিলেন বিরোধের মীমাংসা হোক, দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি ফিরে আসুক। সে কারণেই তিনি দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সেই শান্তির চেষ্টা যেন তার জন্যই কাল হয়ে দাঁড়ায়।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসী সিদ্দিক মোল্লা আমার স্বামীকে হত্যার টার্গেট করে। গত ১৯ জুন শুক্রবার আমার স্বামী তার পঙ্গু চাচা ইসহাক মোল্লাকে হুইলচেয়ারে করে রাস্তায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। ঠিক তখনই হঠাৎ পেছন থেকে একটি অটোতে এসে সন্ত্রাসী সিদ্দিক মোল্লা, রওশন আরা, বিদ্যুৎ মোল্লা ও বিপ্লব মোল্লা আমার স্বামীকে পেছন থেকে রামদা দিয়ে কোপাতে শুরু করে। তারা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হাতের রগ কেটে ফেলে এবং তার সারা শরীর ক্ষতবিক্ষত করে দেয়। আমার স্বামী জীবন বাঁচানোর জন্য ছটফট করলেও তাকে বাঁচানোর কেউ ছিল না। ইসহাক মোল্লা নিজেও ছিলেন একজন পঙ্গু মানুষ। তিনি হুইলচেয়ারে বসা অবস্থায় কোনো দিকে যেতে পারছিলেন না। সেই অসহায় মানুষটিকেও তারা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হাতের দুটি আঙুল কেটে ফেলে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম করে। এরপর তারা সেখানে থাকা লোকজনকে রামদা দিয়ে ভয় দেখিয়ে বলে- ‘যে আসবে, তাকেই মেরে ফেলব।’ 

আমার স্বামী ও চাচা শ্বশুরকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখান থেকে হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর সেখানে ২০ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

লিপি বেগম বলেন, স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে সিরাজদিখান থানায় মামলা করি। একে একে খুনি বিপ্লব মোল্লা, বিদ্যুৎ মোল্লা, সিদ্দিক মোল্লা ও রওশন আরা গ্রেপ্তার হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও আতঙ্কের বিষয় হলো, মাত্র এক মাসের মাথায় খুনি রওশন আরা জামিনে বের হয়ে যায়।

জামিনে বের হওয়ার পর থেকেই রওশন আরা আমাকে ও আমার পরিবারকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছে। মামলা না তুললে বাকিদেরও মেরে ফেলার ভয় দেখাচ্ছে।

লিপি বেগম অভিযোগ জানিয়ে বলেন, এর আগে তারা একজন কাজের মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে। আসিফ নামে আরেক যুবককেও তারা হত্যা করেছে। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা হওয়ায় তারা কাউকে ভয় পান না। এই সন্ত্রাসীদের সঠিক বিচার করা হোক। নাহলে তারা আরও হত্যাকাণ্ড ঘটানোর আশঙ্কা রয়েছে। পুলিশও যেন নিরপেক্ষ থেকে মামলার চার্জশিট দেয় আদালতে।

জেইউ/আরএফ

বিজ্ঞাপন