চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সামিয়া হাকিম নিহা (১৮) নামের তিন মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের কান্দিরপাড় এলাকার সোলেমান কন্ট্রাক্টর বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত সামিয়া হাকিম নিহা ফটিকছড়ি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ রাঙ্গামাটিয়া এলাকার রাজু সুলতানের বাড়ির মো. লোকমান হাকিম ও শারমিন আকতার দম্পতির মেয়ে।
পরিবারসূত্রে জানা গেছে, মাত্র পাঁচ মাস আগে পারিবারিকভাবে ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সুন্দরপুর সোলেমান কন্ট্রাক্টর বাড়ির মৃত মোহাম্মদ জহুরুল আলমের ছেলে মোহাম্মদ মারুফ পারভেজের (৩০) সঙ্গে তার পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়েছিল। মৃত্যুর সময় তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
এ ঘটনায় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নিহতের মা শারমিন আকতার বাদী হয়ে আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগ এনে স্বামীসহ দুজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দু-তিনজনকে আসামি করে ফটিকছড়ি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় অভিযুক্ত দুজন হলেন— নিহতের স্বামী মো. মারুফ পারভেজ (৩০) এবং নিহতের ননদের স্বামী ও ফটিকছড়ি থানাধীন নাজিরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ফরহাদাবাদ এলাকার আঞ্জুমানপাড়ার শফিউল আজমের ছেলে মো. আলাউদ্দিন (৪০)। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই ২ নম্বর অভিযুক্ত মো. আলাউদ্দিনসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের কু-পরামর্শে স্বামী মারুফ পারভেজ পারিবারিক তুচ্ছ বিষয় নিয়ে নিহাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। অভিযুক্তরা মাঝে মধ্যেই নিহাকে আত্মহত্যা করে তাদের পরিবার থেকে চিরতরে চলে যাওয়ার জন্য চাপ দিতেন। নিহা এই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বিষয়টি তার পরিবারকে জানালেও স্বামীসহ অন্যান্যরা নির্যাতন আরও বাড়িয়ে দেয়।
পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের শুরু থেকেই এই পারিবারিক সম্পর্কের বিরোধিতা করে আসছিল ননদের স্বামী অভিযুক্ত আলাউদ্দিন ও তার সহযোগীরা।
সবশেষ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিহতের স্বামী মারুফ পারভেজ পারিবারিক বিষয় নিয়ে নিহাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ মারধর করতে উদ্যত হন এবং তাকে আত্মহত্যা করার কথা বলেন। বিষয়টি ভিকটিম মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার মাকে (বাদী) জানান।
পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে যেকোনো সময় নিহা নিজ ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে স্বামী মারুফ পারভেজসহ আশেপাশের লোকজন তাকে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মা শারমিন আকতারের দাবি, তার মেয়েকে নির্যাতনের পর হত্যা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান তিনি।
জানতে চাইলে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান ঢাকা পোস্টকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী মারুফ পারভেজ পলাতক রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা রুজু হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
এমআর/এমএন
