হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্যবাহী জাহাজ ও কন্টেইনারগুলো চলাচলের ক্ষেত্রে দ্রুত ও অগ্রাধিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে ইরানকে অনুরোধ করেছে ঢাকা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি। এ সময় রাষ্ট্রদূতের কাছে এ অনুরোধ করেছেন প্রতিমন্ত্রী।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখাটা কেবল একটি পক্ষের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে নানা জটিল বিষয় জড়িত এবং এই সংঘাতে একাধিক পক্ষ বা শক্তি যুক্ত রয়েছে। তাই এমন নয় যে, কোনো একটি পক্ষকে একক কর্তৃপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে, যারা এটি খোলা বা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেবে। এ কারণেই আমরা উত্তেজনা প্রশমনের একটি যথাযথ কাঠামোর আওতায় কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছি।
আটকা পড়া বাংলাদেশি জাহাজ এবং জ্বালানিবাহী নৌযানগুলোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আলোচনার বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, বিষয়টি কেবল বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাহাজই এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আমরা জানিয়েছি যে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যেন আমাদের পণ্যবাহী জাহাজ ও কন্টেইনারগুলোর চলাচলের ক্ষেত্রে দ্রুত ও অগ্রাধিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, আমরা আরও অনুরোধ জানিয়েছি যে, পরিস্থিতি শান্ত ও উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার পর আটকে পড়া বাংলাদেশের কার্গো কন্টেইনারগুলোর সময়মতো চলাচলের বিষয়টি যেন অগ্রাধিকার পায়। ইরানের সঙ্গে আমাদের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে আমরা আশা করছি যে, তারা আমাদের এই অনুরোধটিকে ইতিবাচক ও অনুকূল দৃষ্টিতে দেখবে।
বৈঠকটি অত্যন্ত ভালো ও সৌহার্দ্যপূর্ণ হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও সংঘাতের বিষয়ে। আমরা উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছি। সংঘাতের উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টা চালানোই সবসময় আমাদের ধারাবাহিক কূটনৈতিক অবস্থান। আপনারা জানেন, মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী রয়েছেন— বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রায় ৮০ লাখ মানুষ ওই অঞ্চলে কর্মরত। তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, কূটনৈতিকভাবে আমরা সব পক্ষকে সংলাপে বসা, কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যা সমাধান এবং এই সংঘাতের একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছি। মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলে এমন বিষয়গুলোতে— বিশেষ করে ওইসব দেশে অবস্থানরত আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমরা যৌথভাবে কাজ করে যাব।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এ ছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা ও প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা— বিশেষ করে হুথিদের সৃষ্ট নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সহায়তার লক্ষ্যে আমাদের দীর্ঘদিনের সামুদ্রিক সহযোগিতা নিয়ে আমরা মতবিনিময় করেছি। এই সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সৌদি আরব হলো পবিত্র দুই মসজিদের রক্ষক। এ বিষয়ে ইরান আমাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে বোঝে।
বাংলাদেশ ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসনের পক্ষে নয় জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আগ্রাসন বা আক্রমণকে আমরা সমর্থন করি না, তাতে অংশও নিই না এবং এমন কোনো পদক্ষেপের আহ্বানও জানাই না। আমাদের ভূমিকা কেবল হুথিদের সৃষ্ট নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সহায়তা করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
এনআই/এসএএস
