চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে সাংবাদিক ও পুলিশ পরিচয়ে এক নারীর বাসায় ঢুকে চাঁদাবাজি, শ্লীলতাহানি ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে হালিশহর থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দুই অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী আনোয়ারা বেগম (৫৩) বাদী হয়ে হালিশহর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় আটক দুই আসামি শাখাওয়াত হোসেন ও মো. মঈনুদ্দীন। এছাড়া মো. জাহিদ, মো. মোস্তাফিজ ও বাবুল পলাতক রয়েছেন।
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদিন মন্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে হালিশহর থানাধীন শান্তিরহাট এলাকার শামীম আবাসিকের জাদেক আলী ডাক্তারের বিল্ডিংয়ের নিচতলার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় বাসায় আনোয়ারা বেগম ও তার দুই ছেলের স্ত্রী ছিলেন। তার স্বামী পেশায় চালক। ঘটনার সময় তিনি ও তার ছেলেরা বাসায় ছিলেন না।
এজাহারে বলা হয়, শাখাওয়াত হোসেন ও মো. মঈনুদ্দীনসহ পাঁচজন জোরপূর্বক ওই বাসায় প্রবেশ করেন। তাদের কাছে ওয়াকিটকি ও ভিডিও ক্যামেরা ছিল। তারা ভুয়া সাংবাদিকের পরিচয়পত্র দেখিয়ে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দেন এবং একই সঙ্গে পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাসার লোকজনকে ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা বাসায় অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে বলে অভিযোগ তুলে আনোয়ারা বেগম ও তার দুই পুত্রবধূর ভিডিও ধারণ করেন।
পরে আনোয়ারা বেগম ওই বাসাটি তার নিজের বলে জানালে অভিযুক্তরা এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ঘরের আলমারি ও আসবাবপত্র তছনছ করেন এবং মানহানি করার হুমকি দেন। একপর্যায়ে আনোয়ারা বেগমকে ধাক্কা দিয়ে রুমের মধ্যে ফেলে দিয়ে তার শ্লীলতাহানি করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় ভুক্তভোগীদের চিৎকার-চেঁচামেচিতে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। তারা অভিযুক্তদের পরিচয় জানতে চাইলে অভিযুক্তরা তাদেরও হুমকি দিতে থাকেন। পরে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে হালিশহর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ শাখাওয়াত হোসেন ও মো. মঈনুদ্দীনকে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ব্যবহৃত ওয়াকিটকি ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। তবে বাকি তিনজন পালিয়ে যান।
ওসি জয়নাল আবেদিন মন্ডল বলেন, জব্দ করা আলামতসহ আটক দুই আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
আরএমএন/এমএন
