বিজ্ঞাপন

ভারতে বৃষ্টিতে কয়লা সংকট : বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমাল আদানি পাওয়ার

ভারতে বৃষ্টিতে কয়লা সংকট : বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমাল আদানি পাওয়ার

ভারতে রেললাইনের তীব্র জট, পরিবহন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং ভারী বৃষ্টির কারণে আদানি পাওয়ারের ঝাড়খণ্ডের গড্ডা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। এর ফলে প্ল্যান্টে স্বাভাবিকের চেয়ে কম কয়লা পৌঁছানোয় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে সন্ধ্যার পিক আওয়ারে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে দিনের অফ-পিক আওয়ারে গড্ডা কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা কমানো হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) আদানি পাওয়ারের বাংলাদেশের পিআর এজেন্সি ফাইভ ডাব্লিউ কমিউনিকেশন্স এ তথ্য জানায়।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (বিপিডিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে এবং রেকের পর্যাপ্ততা নিশ্চিতে ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে আদানি। আশা করা হচ্ছে, দ্রুতই কয়লা সরবরাহের এই সমস্যা কেটে যাবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। সাময়িক এই অসুবিধা এড়াতে আদানি পাওয়ার কয়লা পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

আদানি পাওয়ার জানায়, মূলত অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ভারতজুড়ে কয়লা পরিবহনে যে বিঘ্ন ঘটেছে, এটি তারই অংশ। ভারী বর্ষণের প্রভাবে বর্তমান সময়ে পূর্ব ও মধ্য ভারতের অন্তত ৪৫টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে এবং এসব কেন্দ্রে কয়লার মজুত আশঙ্কাজনক পর্যায়ে নেমে এসেছে। গড্ডা প্ল্যান্টও এই সামগ্রিক সংকটের বাইরে নয়।

তারা আরও জানায়, জ্বালানি সংকটের এই প্রভাব কেবল ভারতে সীমিত নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতেও এর প্রভাব স্পষ্ট। বর্তমানে কয়লা স্বল্পতার কারণে বাংলাদেশের পায়রা এবং মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্রও পুরোপুরি চালানো সম্ভব হচ্ছে না; কেন্দ্র দুটি বর্তমানে মাত্র একটি করে ইউনিট নিয়ে আংশিকভাবে চালু রয়েছে। যা প্রমাণ করে বর্তমান সংকটটি একক কোনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সমস্যা নয়, বরং এটি পুরো শিল্প খাতের একটি সাময়িক বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ। তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের দিকে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কমে আসার সম্ভাবনা থাকায় খুব দ্রুতই পুরো পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে।

এসআর/বিআরইউ