বিজ্ঞাপন

বৈশ্বিক ফিনটেক নেতৃত্বে বাংলাদেশের তানভীর আহমেদ

বৈশ্বিক ফিনটেক নেতৃত্বে বাংলাদেশের তানভীর আহমেদ

এক স্মার্ট স্বপ্নবাজ তরুণ। বাবা-মায়ের অত্যন্ত আদরের ছেলে। পড়াশোনা শেষ করার আগেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রাণান্ত চেষ্টা আর ছিল আকাশছোঁয়া স্বপ্ন, কিন্তু সেই আরাধ্য স্বপ্নপূরণের পথ ছিল কঠিন, কণ্টকাকীর্ণ।

বাবা চলে যান বড্ড অসময়ে। যে সময়ে একজন ছেলে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে বাবা-মায়ের গাইডেন্স ও আদরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়, নিয়মিত পড়াশোনা করে– সেই সময়েই সামাজিক চাপ, আর্থিক সংকট ও জীবনের নানা প্রতিকূলতায় ভরে ওঠে সৈয়দ তানভীর আহমেদ-এর জীবন। বাবার মৃত্যুর পর জীবন তার সামনে এক কঠিন বাস্তবতা নিয়ে হাজির হয়।

একদিকে মায়ের পক্ষের আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে তৈরি হয় নানা আশঙ্কা– তানভীর হয়তো সম্পত্তির ভাগ চাইবেন। অন্যদিকে, বাবার দিকের আত্মীয়দের মধ্যেও তৈরি হয় নানা শঙ্কা– মৃত ভাইয়ের ছেলে হয়তো সম্পত্তি কিংবা বিভিন্ন দাবি নিয়ে হাজির হবে। ফলে অনার্স পড়ুয়া তানভীরকে তখন অনেকেই প্রত্যাখ্যান করতে শুরু করেন।

শিক্ষাবর্ষের প্রতিটি ধাপই তার কাছে তখন কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠতে থাকে। সেই সময় আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে দূরে সরে গিয়ে, বন্ধু ও বড় ভাইদের কাছেও একসময় নিজেকে যেন বোঝা মনে হচ্ছিলো তার- সব মিলিয়ে বাবা হারানো এক তরুণের জীবন হয়ে ওঠে সংগ্রামের।

কিন্তু তানভীরের চোখে জুড়ে তখনও রাজ্যের স্বপ্ন। মনে ছিল দৃঢ় বিশ্বাস- যেভাবেই হোক সফল তাকে হতেই হবে।

অপমান, আঘাত, অবিশ্বাস কিংবা ছোট করে দেখার অভিজ্ঞতা- কোনোটিই তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি, বরং তার মনোবল আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে। জীবনে চেষ্টা করবেন এবং সফল হবেনই এমন ভাবনা আর নিজের প্রতি দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ছিল তার। 

অনার্স পড়াকালীন সময় দেশে শেয়ারবাজারে ছিল বেশ রমরমা অবস্থা। চেনাজানা বড় ভাই, বন্ধু ও পরিচিতজনদের মধ্যে তানভীরের প্রতি তৈরি হয়েছিল একটি বিশেষ আস্থা। তার কথা ও সিদ্ধান্তের ওপর অগাধ বিশ্বাস থেকেই অনেকে স্টক মার্কেটে বিনিয়োগের জন্য তার হাতে অর্থ তুলে দেন।

সেই আস্থার আর বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে তানভীরের মাধ্যমে স্টক মার্কেটে প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়। কিন্তু এরপরই আসে জীবনের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা।

যে বন্ধুর সঙ্গে ব্যবসা করার পরিকল্পনা করে পুরো অর্থ বিনিয়োগের জন্য তোলা হয়েছিল, সেই বন্ধুই টাকা নিয়ে ইউরোপের একটি দেশে চলে যান। মুহূর্তেই যেন তানভীরের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে।

সামনে তখন দুটি পথ- হয়তো সবকিছু ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া; নয়তো, পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সব বাধা জয় করে জীবনকে দেখিয়ে দেওয়া।

তানভীর নিজের জন্য দ্বিতীয় পথটিই বেছে নেন। ভয়কে জয় করার পাশাপাশি তিনি কোনো সম্পর্ককে ক্ষয়ে যেতে দেননি বরং দায়িত্ব ও আস্থার জায়গা থেকে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। অনার্স ও এমবিএ সম্পন্ন করার পর জীবনের প্রতি এক অনড় ও অটল সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে যান তিনি।

কর্মজীবনের শুরুতে গ্লোবাল মার্কেট ইনডেক্স (জিএমআই)-এ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ তানভীর আহমেদ। এরপর জারা এফএক্সে সেলস ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

এই সময়ে আন্তর্জাতিক ট্রেডিং এবং ফরেন এক্সচেঞ্জ ইকোসিস্টেমের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তানভীর। শুধু নির্দিষ্ট কোনো ফিনানশিয়াল প্রোডাক্ট বিক্রির মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি, ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তুলেছেন একজন মার্কেট বিল্ডিং প্রফেশনাল হিসেবে।

তার ক্যারিয়ারের বড় টার্নিং পয়েন্ট আসে বিশ্বখ্যাত ওয়ান রয়্যালের সঙ্গে কাজের সুবাদে। সেখানে রিজিওনাল বিজনেস ডেভেলপমেন্টের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরবর্তীতে রিজিওনাল হেড অব বিজনেস পদে উন্নীত হন তিনি।

২০২৫ সালে সাউথইস্ট এশিয়া বা এসইএ অঞ্চলের বিজনেস ডেভেলপমেন্টের দায়িত্ব পান সৈয়দ তানভীর আহমেদ। রিজিওনাল মার্কেট পেনিট্রেশন, স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ, অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক এবং বিজনেস গ্রোথে অসামান্য পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেন তিনি।

শুধু নিজের পদ বা পদবিতে গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তানভীর। মাঠপর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও দেখিয়েছেন দক্ষতা। ওমানের মাসকাট মার্কেট এক্সপানশন লিডারশিপে গালফ অঞ্চলের রাজকীয় আসরে শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কাজ করে নেতৃত্বে নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান এই তরুণ।

এরপর বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় একটি ফিনটেক কোম্পানিতে আরও বড় দায়িত্বপ্রাপ্ত হন এই স্বপ্নবাজ তরুণ। তার বিজনেস ফিলোসফি মধ্যপ্রাচ্যের বাজারকে দেখার ক্ষেত্রে নতুন একটি দিক-নির্দেশনা দেয়। গ্লোবাল কোনো প্রোডাক্ট সব বাজারে একইভাবে কার্যকর হয় না। প্রতিটি বাজারের নিজস্ব বাস্তবতা, গ্রাহকের আচরণ ও ব্যবসায়িক কাঠামো বিবেচনায় নিয়েই কৌশল নির্ধারণ করতে হয়।

এই দর্শন ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক ফিনটেক বাজারে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন সৈয়দ তানভীর আহমেদ।

ফিনটেক খাতে তার কাজ ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে সৈয়দ তানভীর আহমেদ অর্জন করেছেন ফোর্বস মিডল ইস্ট এবং দ্য ইএন টাইমস-এর কাছ থেকে রিটেইল এফএক্স বিজনেস ডেভেলপমেন্ট রিকগনিশন।

একসময় যে তরুণ আর্থিক সংকট, সামাজিক চাপ, পারিবারিক অনিশ্চয়তা এবং অবিশ্বাসের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জীবন পার করেছেন, তিনিই আজ আন্তর্জাতিক ফিনটেক অঙ্গনে নেতৃত্বের জায়গায় নিজের অবস্থান তৈরি করছেন।

স্টক মার্কেটে বিনিয়োগের ঘটনায় যাদের অর্থ তার মাধ্যমে বিনিয়োগ করা হয়েছিল, পরবর্তীতে তাদের পাওনা শোধ করেছেন তানভীর। কঠিন সেই অধ্যায়ে ভয়কে জয় করেছেন, ক্ষয় হতে দেননি সম্পর্কগুলোকে এবং হতাশার কাছে করেননি আত্মসমর্পণ।

তার গল্প তাই শুধু একজন ফিনটেক পেশাজীবীর ক্যারিয়ার সাফল্যের গল্প নয়; এটি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার গল্প।

হতাশ হননি। থেমে যাননি, বরং ভয়কে জয় করে, প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে নিজেকে আন্তর্জাতিক ফিনটেক জগতের একজন সফল ও আলোচিত তরুণ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

তাই নতুন প্রজন্মের জন্য বাংলাদেশের কৃতি সন্তান সৈয়দ তানভীর আহমেদের এই পথচলা, অধ্যবসায়, দায়িত্ববোধ এবং অদম্য আত্মবিশ্বাস আর ইচ্ছেশক্তি  এক অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ হতে পারে।

জেইউ/জেআই