বিজ্ঞাপন

মাদকের আধিপত্য নিয়ে গেন্ডারিয়ায় দুই পক্ষের গোলাগুলি, গ্রেপ্তার ৪

মাদকের আধিপত্য নিয়ে গেন্ডারিয়ায় দুই পক্ষের গোলাগুলি, গ্রেপ্তার ৪

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদক কারবারের আধিপত্য বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়ারী বিভাগ। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি, একটি সুইচ গিয়ার চাকু, একটি ধারালো ছোরা ও ১৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন— ফরিদ বেপারী (২৩), মো. সবুজ (২২), শাহাদাত হোসেন আলিফ (১৮) ও রিফাত হোসেন (১৯)।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, গত ৩০ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগের মুনশিরটেক এলাকায় মাদক কারবারের আধিপত্য বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি ও দেশীয় অস্ত্রের মহড়া হয়। এতে সাধারণ পথচারী ও দোকানদারসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হন।

ঘটনার পর গেন্ডারিয়া থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ওয়ারী বিভাগ ছায়া তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলায় অংশ নেওয়া অস্ত্রধারীদের শনাক্ত করা হয়।

শফিকুল ইসলাম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে যাদের শনাক্ত করা গেছে, তাদেরই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফুটেজে যার হাতে বড় চাকু দেখা গেছে, তাকে সেই চাকুসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইভাবে অস্ত্রধারীদের মধ্য থেকে দুজনকে শনাক্ত করা হলেও তাদের মধ্যে একজনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল (বুধবার) রাত ১১টা ১০ মিনিটে যাত্রাবাড়ী থানাধীন ধোলাইপাড় থেকে দয়াগঞ্জগামী সড়কের পাশে ৮ নম্বর পাড়া, গেন্ডারিয়া মীর হাজীরবাগ এলাকায় ইসরাত কনস্ট্রাকশনের নির্মাণাধীন ভবনে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর ফরিদ বেপারীর কোমরে গোঁজা অবস্থায় একটি ৭.৬৫ মিমি বিদেশি পিস্তল, একটি স্টিলের ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। তার প্যান্টের পকেট থেকে ১৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ৪৮ হাজার টাকা।

মো. সবুজের কাছ থেকেও একটি ৭.৬৫ মিমি বিদেশি পিস্তল ও একটি স্টিলের ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। শাহাদাত হোসেন আলিফের কাছ থেকে একটি সুইচ গিয়ার চাকু এবং রিফাত হোসেনের কাছ থেকে কাঠের বাটযুক্ত একপাশ ধারালো আঁকাবাঁকা ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।

মনিরের সঙ্গে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, বিএনপি নেতা মনির হোসেনের অফিসে হামলার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। মনিরের রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তার সঙ্গে হামলাকারীদের কোনো ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসা চলে আসছে। মাদক ব্যবসা বন্ধে মনির হোসেনের কোনো ভূমিকা ছিল কি না এবং সে কারণেই হামলার ঘটনা ঘটেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত শেষ হলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।

ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তারদের অধিকাংশই কিশোর বয়সী এবং তারা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের সঙ্গে জড়িত।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই তারা গ্যাং পরিচালনা করছে।’

তাদের পেছনে কারও ইন্ধন রয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেখানে অটো সজল নামে তাদের আরও একজন গডফাদার রয়েছে। যদিও অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে সে জেলে রয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি, মূলত সে ছিল তাদের পেছনে। আমরা মামলা করেছি। এখন তদন্ত করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

মনিরের পক্ষ থেকেও অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ঘটনায় উভয় পক্ষের কাছ থেকেই অস্ত্র ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের কিছু লোক প্রতিরোধ করতে গিয়েছিল। প্রতিরোধ করতে গিয়ে তারাও অস্ত্র ব্যবহার করেছে।

সাংবাদিকরা জানতে চান, প্রতিরোধকারীরা মনির হোসেনের পক্ষের কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘জি, মনিরের পক্ষে।’

রাজনৈতিক পরিচয় দেখে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে শফিকুল ইসলাম বলেন, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় পুলিশের কাছে বিবেচ্য নয়। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘কে কোন দল করে, সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। কোনো দলের পরিচয়ে কেউ সন্ত্রাসী কার্যক্রম বা চাঁদাবাজি করলে তার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমরা পুলিশের চাকরি করতে এসেছি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে এসেছি। অপরাধী দমন করাই আমাদের মূল কাজ।’

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে গেন্ডারিয়ার গোলাগুলির নেপথ্যে কারা রয়েছে, বিরোধের মূল কারণ কী এবং এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত এসব বিষয় বের করার চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এসএএ/আরএফ