বিজ্ঞাপন

কর্ণফুলীতে দাবি আদায়ে প্রিমিয়ার সিমেন্টের কর্মচারীদের বিক্ষোভ

কর্ণফুলীতে দাবি আদায়ে প্রিমিয়ার সিমেন্টের কর্মচারীদের বিক্ষোভ

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে প্রিমিয়ার সিমেন্ট লিমিটেড কারখানার কর্মচারীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইছানগর এলাকায় প্রিমিয়ার সিমেন্ট কারখানার প্রধান ফটকে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় কর্মচারীরা বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেন এবং দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

বিক্ষোভকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা বিভিন্ন দাবি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আসছেন। প্রতিবারই দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। প্রত্যাশিত সমাধান না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নেমেছেন।

কর্মচারীদের অভিযোগ, তাদের চাকরি স্থায়ীকরণের কথা বলা হলেও স্থায়ী হওয়ার পর একজন কর্মচারীর যে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা, তারা তা পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে গত জানুয়ারি মাস থেকে ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার কথা বলা হলেও পরবর্তী সময়ে গত আগস্ট মাসে তাদের জানানো হয়, চলতি বছরে আর ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হবে না। আগামী জানুয়ারি মাসে ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার কথা জানায় কর্তৃপক্ষ।

বিক্ষোভকারীরা আরও অভিযোগ করেন, এভাবে দীর্ঘদিন ধরে তাদের ঘুরানো হচ্ছে এবং ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাদের দাবি, ২০২৪ সালে একবার ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়েছিল। এর আগে তারা কখনো ইনক্রিমেন্ট পায়নি।

এসময় বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবি উত্থাপন করে বলেন, ‘আমাদের সর্ব নিম্ন ২০% হারে বেতন বৃদ্ধি ও ৭ মাসের এরিয়া বিলসহ ফুডিং বিল প্রতিমাসের বেতন সঙ্গে দিতে হবে। যা আজকের মধ্যে সমাধান করতে হবে। বছরে যৌক্তিক হারে শ্রমিকের বেতন বৃদ্ধি করতে হবে। শ্রমিকদেরও প্রভিডেন্ট ফান্ড চালু করার ব্যবস্থা করতে হবে। ফ্যাক্টরির কোনো শ্রমিক আহত হলে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা কোম্পানিকে বহন করতে হবে। চাকুরির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা দিতে হবে এবং শ্রমিকদের চাকুরিচ্যুত করা হলে একমাস তাকে চাকুরি করার সুযোগসহ তিন মাসের বেতন দিতে হবে।’

এছাড়াও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে কোম্পানির কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন কর্মচারীরা।

এ বিষয়ে প্রিমিয়ার সিমেন্ট কারখানার অ্যাডমিন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমরা ইনক্রিমেন্টের বিষয়ে যাবতীয় কাগজপত্র হেড অফিসে পাঠিয়েছি। অফিস থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, তা তাদের জানিয়ে দেওয়া হবে।’

২০২৪ সালের আগে কর্মচারীদের ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়েছিল কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালে দেওয়া হয়েছিল। তার আগে কখনো দেওয়া হয়েছিল কি না, তা আমার জানা নেই।’

এদিকে, বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কারখানা এলাকায় কিছুটা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

এমআর/আরএফ