দেশের প্রধান ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের (কমলাপুর) কম্পিউটারভিত্তিক ইন্টারলকিং (সিবিআই) সিগন্যাল ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে প্রায় তিন ঘণ্টা ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ সময় ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ট্রেন পরিচালনা করতে হয়। এতে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া এবং ঢাকায় আসা অন্তত ১৮টি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় ২৫ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত দেরিতে চলেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ১০ মিনিটের দিকে কমলাপুরের সিবিআই সিগন্যাল সিস্টেমে হঠাৎ ত্রুটি দেখা দেয়।
সিস্টেমে ‘আউট অব অর্ডার’ বার্তা প্রদর্শনের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিগন্যাল পরিচালনা বন্ধ হয়ে যায়। পরে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা ত্রুটি শনাক্ত ও সমাধানের কাজ শুরু করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর দুপুর ১টার দিকে সিস্টেমটি আবার সচল হয়।
সিগন্যালের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় এই সময় ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণে ম্যানুয়াল পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এতে ট্রেনের জন্য রুট নির্ধারণ এবং সিগন্যাল দেওয়ার প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগে। ফলে কমলাপুর থেকে ট্রেন ছাড়তে যেমন বিলম্ব হয়, তেমনি বিভিন্ন রুট থেকে ঢাকায় আসা ট্রেনের প্রবেশেও সময় বেশি লাগে।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, সিগন্যাল ব্যবস্থার এই সমস্যার সময়ে অন্তত ১৮টি ট্রেনের সময়সূচি বিঘ্নিত হয়। কোনো কোনো ট্রেন ২৫ মিনিট দেরিতে চললেও কয়েকটি ট্রেনের বিলম্ব গড়ায় ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত।
ঢাকা দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত রেলস্টেশনগুলোর একটি হওয়ায় এখানকার ট্রেন চলাচলে সাময়িক বিঘ্নও দ্রুত অন্য রুটে প্রভাব ফেলে। একটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরি করলে পরবর্তী ট্রেনগুলোর সূচিও পরিবর্তিত হয়। সিগন্যাল ব্যবস্থা সচল হওয়ার পরও তাই কয়েকটি ট্রেনের চলাচলে বিলম্বের প্রভাব থেকে যায়।
এ ঘটনায় যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রেলওয়ে-সংক্রান্ত বিভিন্ন গ্রুপে যাত্রীরা দীর্ঘ সময় ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকার তথ্য জানান। বিশেষ করে গাজীপুরসহ ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ট্রেন আটকে থাকার কথা উল্লেখ করে অনেকে পোস্ট করেন। ট্রেন কখন চলাচল শুরু করবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগও দেখা দেয়।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, সিগন্যাল বিভাগের সফটওয়্যারে ত্রুটির কারণেই সিবিআই সিস্টেমটি অচল হয়ে পড়েছিল। পরে সফটওয়্যার পুনরায় ইনস্টল করার মাধ্যমে সিস্টেম সচল করা হয়। তবে সফটওয়্যারে কী কারণে এ ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সার্বিক বিষয়ে ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) এবিএম কামরুজ্জামান বলেন, সিগন্যাল ব্যবস্থায় সমস্যা হওয়ায় কিছু সময় ম্যানুয়াল ট্রেন চালাতে হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সিগন্যাল বিভাগের সফটওয়্যারে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। পরে সফটওয়্যারটি পুনরায় ইনস্টল করা হয়। এ কারণে ট্রেন চলাচলে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
তিনি বলেন, ঘটনার কারণ বিস্তারিতভাবে জানতে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এমএইচএন/বিআরইউ
