বিজ্ঞাপন

হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ট্রাভেল এজেন্সি মালিক, নারীসহ ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ট্রাভেল এজেন্সি মালিক, নারীসহ ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

রাজধানীর মিরপুরে হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে এক ট্রাভেল এজেন্সির মালিকের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে- তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক ও একজন শিশু।

গ্রেপ্তাররা হলেন-সোহানা (৩৫), সুমন (৪০) ও ছাব্বির আহম্মেদ (৩৫)। এ ঘটনায় জড়িত শিশুকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে গ্রেপ্তাররা পরিকল্পিতভাবে হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে ওই ট্রাভেল এজেন্সি মালিককে ফাঁদে ফেলেন। পরে তার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে পরিবারের সদস্যদের দেখানোর ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে মোট পাঁচ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গত ৩১ আগস্ট পাসপোর্ট ও ওমরাহ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ার কথা বলে ওই ব্যক্তিকে আহম্মেদনগরের একটি বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে সোহানা কৌশলে তাকে শয়নকক্ষে নিয়ে যান। পরে অন্যরা সেখানে প্রবেশ করে তাকে মারধর এবং আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। এরপর এসব ছবি ও ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

উপ-পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ দুই লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং বিকাশ ও নগদ হিসাবের মাধ্যমে আরও দুই লাখ ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে পাঁচ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে।

তিনি জানান, বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে মিরপুর মডেল থানা আহম্মেদনগর এলাকার নিজ নিজ বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের সময় সোহানার কাছ থেকে নগদ ২১ হাজার ৫০০ টাকা ও আইএফআইসি ব্যাংকের দুটি হিসাবের ডিপোজিট স্লিপ, ছাব্বির আহম্মেদের কাছ থেকে একটি ইনফিনিক্স স্মার্টফোন ও একটি আইফোন ১১ প্রো ম্যাক্স এবং শিশুটির কাছ থেকে একটি ইনফিনিক্স স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল কিনা, সে বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এসএএ/বিআরইউ