প্রবাসী আয় বৃদ্ধি ও দেশে খাদ্যের পর্যাপ্ত মজুতের তথ্যের পাশাপাশি দীর্ঘ দেড় দশক পর হুইলচেয়ারে ভর দিয়ে প্রবীণ রাজনীতিক মির্জা আব্বাসের উপস্থিতি ও আবেগময় বক্তব্যে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে সংসদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন।
এছাড়া র্যাব বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) গঠনের বিল উত্থাপনকে কেন্দ্র করে অধিবেশনে বিতর্ক ও পাল্টাপাল্টি যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।
সংসদে আবেগাপ্লুত মির্জা আব্বাস
দীর্ঘদিন বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরে সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়ে আবেগাপ্লুত হয়েছেন ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস। ২০০৬ সালের পর প্রথমবার সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশনে প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেন মির্জা আব্বাস। সংসদ অধিবেশনে হুইল চেয়ারে বসে বক্তব্য দেন বিএনপির এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ।
এদিন বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে হুইলচেয়ারে প্রবেশ করেন মির্জা আব্বাস। হুইলচেয়ারে বসে সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমানের সিটের পাশে বসে তার মাইকে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।
মির্জা আব্বাস জানান, দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস ধরে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নির্বাচনের পরপরই একটি দলীয় রাজনৈতিক সভায় তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এরপর তাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় অবস্থান করতে হয়েছে। চিকিৎসা শেষ না হলেও এবং শরীর পুরোপুরি সুস্থ না থাকা সত্ত্বেও নিছক ভালোবাসা, আবেগ ও জনগণের প্রতি মানবিক দায়বদ্ধতার কারণে তিনি আজকের সংসদে উপস্থিত হতে বাধ্য হয়েছেন। সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় আবেগে তার কণ্ঠ ভেঙে আসছিল।

তিনি আবেগঘন কণ্ঠে জানান, ২০০৬ সালের পর আজ আবার এই কক্ষে একজন সংসদ সদস্য হিসেবে দাঁড়িয়ে কথা বলার সুযোগ পাওয়া তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম আবেগপূর্ণ ও স্মরণীয় মুহূর্ত। এটি তার জন্য আনন্দের ও গর্বের বিষয়।
নিজের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা সফর নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মির্জা আব্বাস জানান, অসুস্থতার খবর শুনে জাতীয় সংসদের স্পিকার নিজে তাকে দেখতে গিয়েছিলেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সার্বিকভাবে নিয়মিত তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর রেখেছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্পিকারের এই আচরণ তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, এটি কেবল একজন অসুস্থ মানুষের প্রতি সাধারণ সমবেদনা ছিল না, বরং তা ছিল সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অপূর্ব ও মানবিক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাদের এই আন্তরিকতা ও ভালোবাসা তিনি কোনোদিন ভুলবেন না।
তিন বছরে চার শতাধিক তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ
সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) ২৮২টি এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) ১২০টি সদস্য কারখানা বন্ধ হয়েছে। সব মিলিয়ে বন্ধ কারখানার সংখ্যা চার শতাধিক। বন্ধ কারখানাগুলোর নামের তালিকা সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান।
গত ২২ জুন বিজিএমইএ প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী কারখানা বন্ধের আটটি কারণ তুলে ধরেন। এগুলো হলো, বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ, আমেরিকা-ইরানের মধ্যে সংঘাত, আন্তর্জাতিক মন্দা, দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থ পাচারের কারণে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট এবং ইউরোপের সঙ্গে ভারত ও ভিয়েতনামের এফটিএ চুক্তি।
এছাড়া বিদেশি ক্রেতাদের নিজস্ব মনিটরিং সুবিধার জন্য ছোট ও মাঝারি কারখানায় রফতানি আদেশ দিতে অনাগ্রহকেও কারখানা বন্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
পোশাক রপ্তানিতে বড় ঝুঁকি ও বাণিজ্য ঘাটতি
বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অবস্থান ধরে রাখতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শিগগিরই স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে। ফলে উন্নত দেশগুলোর ট্রেডিং স্কিমের আওতায় বিদ্যমান অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাবে প্রায় ১৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
সংসদ সদস্য আব্দুল বাতেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় পৌনে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারতে ১ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করেছে। বাকি অর্থের পণ্য ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছে। ভারতের পাশাপাশি চীনের সঙ্গেও বাংলাদেশের বড় বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রফতানি বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভারতের দিক থেকে কিছু বাধা রয়েছে। একই সঙ্গে গত দুই বছরে বাংলাদেশের দিক থেকেও কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ভারতের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিলে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। সরকার এ প্রস্তাবে আগ্রহ দেখিয়েছে।
সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদার প্রায় সম্পূর্ণটাই আমদানিনির্ভর। বর্তমানে দেশে বছরে আনুমানিক ২২ থেকে ২৫ লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেলের প্রয়োজন হয়।
অন্যদিকে সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দুই স্ট্রোক ইঞ্জিনবিশিষ্ট থ্রি-হুইলার—টেম্পু, অটোরিকশাসহ সংশ্লিষ্ট যানবাহন আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২৯ অনুযায়ী আমদানি নিষিদ্ধ। তবে স্থানীয়ভাবে ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার উৎপাদন শিল্পকে সহায়তার জন্য যন্ত্রাংশ আমদানি করা হচ্ছে। এছাড়া গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান মোল্যার প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এআরটি চুক্তির ফলে বাংলাদেশ প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় দেশটির বাজারে রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছে।
দেশে খাদ্যশস্যের কোনো ঘাটতি নেই
সংসদ সদস্য মো. মশিউর রহমান খানের প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম জানান, ৩০ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে মোট ২৪ লাখ ৩৭ হাজার ৮০৭ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ ছিল। গত ৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত খাদ্য পরিকল্পনা ও পর্যবেক্ষণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় স্বাভাবিক সময়ে সরকারি খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা মজুদ ১৪ লাখ মেট্রিক টন এবং সংকট সময়ে ১৫ লাখ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে। সুতরাং দেশে খাদ্য (চাল ও গম/আটা) ঘাটতির কোনো সুযোগ নেই।
গত অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৫ হাজার ৫৮৯ মিলিয়ন ডলার
সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৩০ হাজার ৩২৮ দশমিক ৮১ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। পরের অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৫৮৯ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন ডলারে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৫ হাজার ২৬১ মিলিয়ন ডলার বেশি। গত অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে।
সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী জানান, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফর করেছেন। পরবর্তীতে গত জুলাই মাসের শেষের দিকে পুনরায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা এবং মন্ত্রী দেশটিতে সফর করেছেন। আশা করা যায় যে, অতিদ্রুত দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর পথ সুগম হবে। সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর জানান, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি, অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির পর ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে অবকাঠামো তৈরিতে শ্রমিকের চাহিদা তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পাবে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান ও অভিবাসের সুযোগ সৃষ্টির জন্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
র্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের বিল সংসদে উত্থাপন
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন-২০২৬’ নামের ওই বিলটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন। শুরুতে বিল উত্থাপনে আপত্তি জানালেও পরবর্তীতে সমঝোতার ভিত্তিতে একমত পোষণ করে বিরোধীদল। পরে বিলটি উত্থাপিত হলে তা অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। কমিটিকে যাচাই-বাছাই শেষ করে আগামী চার দিনের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আইন কার্যকর হলে র্যাব গঠনসংক্রান্ত বিধান রহিত হবে।
উত্থাপিত বিলে বলা হয়েছে, জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং পুলিশ বাহিনীকে সহায়তার জন্য আধুনিক, পেশাদার, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাহিনীর ক্ষমতা প্রয়োগে স্বচ্ছতা, তদারকি ও কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। বিলে এসআরবির দায়িত্বের মধ্যে জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার এবং মাদক, সাইবার অপরাধ, গুম ও ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, মানবপাচার ও অপহরণসহ মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে ইউনিটটি।
প্রস্তাবিত আইনে এসআরবিকে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে এসব ক্ষমতা ফৌজদারি কার্যবিধি ও প্রচলিত অন্যান্য আইন অনুসরণ করে প্রয়োগ করতে হবে। পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিচে নন, এমন এসআরবি কর্মকর্তা তদন্তকারী কর্মকর্তার আইনগত ক্ষমতা ও দায়িত্ব প্রয়োগ করতে পারবেন। তবে কাউকে গ্রেপ্তার বা কোনো আলামত জব্দ করার পর তা এসআরবির হেফাজতে রাখা যাবে না। অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে বা জব্দ করা আলামত নিকটস্থ থানার হেফাজতে দিতে হবে।
বিলে এসআরবি সদস্যদের কর্তব্যে অবহেলা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আইনসংগত আদেশ অমান্যসহ নানা অপরাধে গুরুদণ্ড ও লঘুদণ্ডের বিধান রয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে, যেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দফতর, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং মানবাধিকার সংরক্ষণে অভিজ্ঞ ব্যক্তি থাকবেন।
বিলটি উত্থাপনের সময় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ও চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিরোধিতা করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, র্যাব রাজনৈতিক কারণে আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এবং সব দল র্যাব বিলুপ্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এখন নতুন মোড়কে না এনে এটি বিলুপ্ত করে সংসদে আলোচনার দাবি জানান।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল র্যাব নামে কোনো সংগঠন থাকবে না, সেটা বিলুপ্ত করা হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট দরকার যেখানে একাউন্টেবিলিটি ও ট্রান্সপারেন্সি ফিক্সড করা হয়েছে। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে বিলটি ৪ কার্যদিবসের জন্য স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব গৃহীত হয়।
এর আগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন-২০২৬’ নামের একটি বিল উত্থাপন করেন। এছাড়া ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল-২০২৬’ নামে আরও একটি বিল উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিল দুইটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
শুধু হিস্যা চাইলে হবে না, সংশোধন প্রক্রিয়াতেও আসতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জাতীয় সংসদে সংসদীয় কমিটির প্রতিনিধিত্ব ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা চলাকালে বিরোধী দলের প্রতি একাত্ম হয়ে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, শুধু অধিকার বা স্থায়ী কমিটির সভাপতির হিস্যা দাবি করলেই চলবে না, জুলাই জাতীয় সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে বিরোধীদের মূল সংশোধন প্রক্রিয়াতেও এগিয়ে আসতে হবে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান অতীতে নবম জাতীয় সংসদে বিরোধী দল থেকে দুইজন স্থায়ী কমিটির সভাপতি থাকার নজির স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করার যে অঙ্গীকার সরকার দিয়েছে, তারা তার বাস্তবায়ন দেখতে চান।
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ঐতিহ্য মেনে ইতোমধ্যে বিরোধীদলীয় উপনেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বিরোধী দলকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও উচ্চকক্ষ স্থাপনের লক্ষ্যে তারা যেন সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে অংশগ্রহণ করে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। সরকার দ্রুতই সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে নিয়ে আসবে এবং বিরোধীদের পূর্ণ সহযোগিতার মাধ্যমেই জুলাই জাতীয় সনদের অক্ষরের বাস্তবায়ন ঘটাবে।
এসআর/এমএসএ
