চট্টগ্রামের রাউজানে আব্দুল করিম (৪০) নামের এক যুবদলকর্মীকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী ও জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরাণীহাট বাজার এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরে প্রকাশ্যে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল করিম ওই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে কেরাণীহাট বাজার এলাকায় সন্ত্রাসীরা করিমকে লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে গুলি চালায় এবং কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে নিহতের স্ত্রী বিলকিস আক্তার বাদী হয়ে রাউজান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, আজ সকালে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি এবং সুনির্দিষ্ট কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়নি।
পুলিশ জানায়, করিমের শরীরের তিনটি স্থানে গুলি করা হয়েছে। তার পেট, ঊরু ও নিতম্বে গুলি লাগার পাশাপাশি ঘাড় ও কপালে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তবে ঘটনাস্থলের আশপাশে কোনো ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি।
রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুহাম্মদ বেলায়াত হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, সন্ত্রাসীদের আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্ব থেকে এ খুনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ঘটনার সময় বাজারটি লোকশূন্য হয়ে পড়ায় কীভাবে ও কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটল, পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারেনি। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পরিদর্শনের পর চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী মুঠোফোনে ঢাকা পোস্টকে বলেন, সকালে সংশ্লিষ্ট অফিসাররাসহ ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। নিহত ব্যক্তির বিরুদ্ধে চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি ও ধর্ষণসহ মোট ৯টি মামলা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। কেন হত্যা করা হলো, কেন খুন করা হলো তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তদন্তের পর মূল ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে এ পর্যন্ত রাউজানে ২৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২০টি হত্যাকাণ্ডই রাজনৈতিক বিরোধের জেরে সংঘটিত হয়েছে। একই সময়ে সেখানে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনায় সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
এর আগে গত ১৩ জুন রাউজানের পাহাড়তলী বাজারের চৌমুহনী এলাকায় একদল অস্ত্রধারীর গুলিতে নিহত হন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ (৪৮)। ধারাবাহিক এসব হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জেআই
