বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামে বাসায় চুরি

৭ ভরি স্বর্ণ ও ১৫ লাখ টাকা উদ্ধার, নারীসহ গ্রেপ্তার ৭

৭ ভরি স্বর্ণ ও ১৫ লাখ টাকা উদ্ধার, নারীসহ গ্রেপ্তার ৭

চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ এলাকায় দিনের বেলায় একটি বাসায় চুরির ঘটনায় নারীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া ৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং স্বর্ণ বিক্রির ১৫ লাখ ১১ হাজার ৮০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া একটি মুঠোফোনও উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল তিনটায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) পশ্চিম বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আলমগীর হোসেন সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

dhakapost

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জসিম উদ্দিন (৪৫), মোস্তাকিন হোসেন মিঠু (৪৭), সেতু দাস ওরফে সালাউদ্দিন (৪৩), মোহাম্মদ আলী (৪৩), দেবব্রত বণিক ওরফে বলাই বণিক (৩৭), মো. ইসমাইল (৩৩) ও ফারজানা বেগম (৩৮)।

সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) মো. আলমগীর হোসেন জানান, গত ২৮ জুলাই দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আকবরশাহ এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ‘বিসমিল্লাহ ফার্নিচার’-এর মালিক মো. আলমগীর মিয়া স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যান। দুপুর দেড়টার দিকে তার এক প্রতিবেশী বাসার দরজার হুক কাটা অবস্থায় দেখতে পান। পরে ঘরে ঢুকে দেখা যায়, জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখা হয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চোরেরা ওই বাসার স্টিলের আলমারি ভেঙে প্রায় ১০ ভরি ৪ আনা স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ২০ লাখ টাকা, নগদ ২ লাখ টাকা, ১২ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল এবং একটি আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্স নিয়ে যায়। একই সময়ে পাশের বাসার বাসিন্দা নুরুল ইসলামের বাসার দরজার হুক ও আলমারি ভেঙে নগদ ৬০ হাজার টাকা, দেড় ভরি স্বর্ণালংকার ও একটি স্যামসাং অ্যান্ড্রয়েড ফোন চুরি করা হয়।

এ ঘটনায় আলমগীর মিয়া আকবরশাহ থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে গত ৬ আগস্ট ডবলমুরিং থানা এলাকা থেকে জসিম উদ্দিন ও মোস্তাকিন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৭ আগস্ট কোতোয়ালি এলাকা থেকে সেতু দাস, মোহাম্মদ আলী ও দেবব্রত বণিককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ১০ আগস্ট ডবলমুরিং এলাকা থেকে মো. ইসমাইল এবং ১৯ আগস্ট একই এলাকা থেকে ফারজানা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উপ-পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আলীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাসার চালের ড্রামের ভেতর পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ১৫ লাখ ১১ হাজার ৮০০ টাকা ও একটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, চুরি করা স্বর্ণ বিক্রি করে পাওয়া টাকা সেখানে রাখা হয়েছিল।

পরে মোহাম্মদ আলীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে চুরি যাওয়া ৭ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মধ্যে দুটি নেকলেস, তিনটি চেইন, এক জোড়া কানের দুল ও একটি আংটি রয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সেতু দাস, জসিম উদ্দিন ও মোস্তাকিন হোসেনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদ আলী ও ফারজানা বেগম আদালতে চুরির ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নগরের বিভিন্ন থানায় আগে থেকেই চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, অস্ত্র ও মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মোস্তাকিন হোসেনের বিরুদ্ধে ৯টি, মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে ৭টি এবং সেতু দাস ও জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ৬টি করে মামলা রয়েছে।

চুরি হওয়া বাকি মালামাল উদ্ধার এবং এই চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

জেআই