জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সদস্যসচিব জোবাইরুল আলম মানিক বলেছেন, নির্বাচনের আগে ৪০–৪৫ বছর বয়সি এমন অনেক ব্যক্তি নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহকে ‘টোকাই’ বলে কটূক্তি করতেন, যাদের নিজেদেরই জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্যতা ছিল না। এখন সেই তরুণেরাই সংসদে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলায় এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সমন্বয় সভা ও যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোবাইরুল আলম এসব কথা বলেন। আনোয়ারা উপজেলা এনসিপির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব রিদুওয়ানুল করিম হৃদয়।
এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রকৌশলী কাইয়ুমুল ইসলাম, চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাঈদ মোহাম্মদ ইফতিখার, দক্ষিণ জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিকুর রহমান চৌধুরী মিশকাত ও যুগ্ম সদস্যসচিব জিয়াউর করিম।
জোবাইরুল আলম বলেন, ৪০–৪৫ বছর বয়সি যেসব মানুষ জীবনে মেম্বার হওয়ার যোগ্যতাও রাখে না, নির্বাচনের আগে তারাই নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহকে কটূক্তি করে টোকাই বলে সম্বোধন করত। অথচ আজ তরুণেরা সংসদে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছে। তাদের ভূমিকা সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, স্বৈরাচার পতনের পর অনেকে তরুণদের পড়ার টেবিলে ফিরে যেতে বলছেন। ছাত্রদের টেবিলে ফেরত পাঠিয়ে নতুন করে স্বৈরাচারের উৎপত্তি ঘটানোর সুযোগ আর দেওয়া হবে না। শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিস্টকে যেখানে ছাত্র-জনতা বিতাড়িত করেছে, সেখানে নতুন কোনো ফ্যাসিবাদের জায়গা হবে না।
আনোয়ারা ও কর্ণফুলীতে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিবারতন্ত্রের চর্চা চলছে দাবি করে এনসিপির এই নেতা বলেন, জন্মের পর থেকে দেখছি, দুটি নির্দিষ্ট পরিবার আনোয়ারা ও কর্ণফুলীকে শাসন করে আসছে। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ওই দুই পরিবারের বাইরে গিয়ে কেউ নেতৃত্ব দেওয়ার সাহস পেত না।
তিনি আরও বলেন, ৩০–৪০ বছর ধরে বাবার পেছনে রাজনীতি করা ব্যক্তিদের শেষ পর্যন্ত তার ছেলের পেছনেও রাজনীতি করতে হচ্ছে। এনসিপি এই পরিবারতন্ত্রের অবসান চায়। যোগ্যতা থাকলে একজন কৃষকের ছেলেও এমপি বা প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে জোবাইরুল আলম বলেন, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তরুণেরা প্রার্থী হবে। সেন্টারে প্রভাব খাটানো কিংবা কেন্দ্র দখলের চিন্তা থাকলে তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। একজন এএসপি দায়িত্বে থাকলেও কেন্দ্র দখল করে ভোট নেওয়া চলবে না।
অনুষ্ঠানে আনোয়ারার জে কে এস উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলামসহ দুই শতাধিক কিশোর ও যুবক এনসিপি ও জাতীয় ছাত্রশক্তিতে যোগ দেন।
সভায় দক্ষিণ জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন ও সিফাত চৌধুরী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আকাশ নূর, এ কে এম মুরশেদ ও শাহেদুল ইসলাম শাহেদ, দপ্তর সম্পাদক ইরফান মাহমুদ আল সাইদ, সহদপ্তর সম্পাদক জহির উদ্দিন চৌধুরী হিমেল, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মো. শাহেদুল আলম, নারীবিষয়ক সম্পাদক ডালিয়া বড়ুয়া এবং সহ-নারীবিষয়ক সম্পাদক জোবাইদা হক তানজুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জেআই
