চট্টগ্রামে জন্মাষ্টমী মহোৎসবের ধর্মমহাসম্মেলনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা ধর্মের জন্য কাজ করছে না। মসজিদে যে অনুদান দেওয়া হচ্ছে, মন্দিরেও একই অনুদান দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে মসজিদের ইমামকে যে সহায়তা দেওয়া হয়েছে, মন্দিরের পুরোহিতকেও তা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের জেএমসেন হল প্রাঙ্গণে জাতীয় জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ধর্মমহাসম্মেলন ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গত ছয় মাসে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সামাজিকভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং নিজেদের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন এসেছে। সবকিছু হয়ত পুরোপুরি হয়নি, কিন্তু গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। এই পরিবর্তন চলমান এবং তা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য ক্ষমতায় আসেনি। বাংলাদেশের সব গোষ্ঠীর ভোটের মাধ্যমে এই সরকার বিপুল বিজয়ের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। সনাতনী, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীসহ সবাই খোলাখুলিভাবে ভোট দিয়েছেন। এ সরকার গণতান্ত্রিক সরকার, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার।
সমাজে যে অবক্ষয় ও বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে, তা একদিনে সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিগত দিনে একটি অরাজনৈতিক সরকার সমাজে যে বিভেদের সৃষ্টি করেছে, তা আগামীকাল সকালেই সমাধান হয়ে যাবে—এমনটি তিনি বলছেন না। তবে সরকার যে পথে এগোচ্ছে, সেই পথ ঠিক থাকলে ধীরে ধীরে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, আমরা সব গোষ্ঠীর কথা মাথায় রেখে নীতিমালা প্রণয়ন করছি। মসজিদে যে অনুদান দেওয়া হবে, মন্দিরেও একই অনুদান দেওয়া হবে। মসজিদের ইমামকে যা দেওয়া হয়েছে, মন্দিরের পুরোহিতকেও তা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে এর আগে এমনটি কখনো হয়নি।
সনাতনীদের জন্য নিজের দরজা সব সময় খোলা উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আপনারা আমাদের কাছে আসবেন। কারও মাধ্যম লাগবে না, সরাসরি আসবেন। সনাতনীদের জন্য আমার দরজা সব সময় খোলা। সনাতনীদের যেসব সমস্যা রয়েছে, তা আমরা চিহ্নিত করব এবং সেগুলোর সমাধানে কাজ করব।
তিনি আরও বলেন, আপনারা নিজেদের দুর্বল মনে করবেন না। নিজেদের অন্যদের থেকে পৃথক মনে করবেন না। আমরা এমন একটি দেশ গড়তে চাই, যেখানে সব মানুষ নিজ নিজ উৎসব পালন করবে, নিজ নিজ অধিকার ভোগ করবে এবং সমঅধিকার পাবে। কারও জন্য বিশেষ কিছু করা হবে না, আবার কোনো গোষ্ঠীকে ছোট করে দেখা হবে না।
আমির খসরু বলেন, আসুন, সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে কোনো বঞ্চনা থাকবে না। আমি যখন বড় বাজেট প্রণয়ন করেছি, তখন অনেকে বলেছেন, এত বড় বাজেট কেন? আপনি কি এটি বাস্তবায়ন করতে পারবেন? আমরা বলেছি, সবার জন্য যে বাজেট, তা সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে আমরা কাজ করে যাব।
ঐতিহাসিক জেএমসেন হল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ধর্মমহাসম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার। মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শ্রীশ্রী কৈবল্যধামের মোহন্ত মহারাজ কালীপদ ভট্টাচার্য।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লায়ন আর কে দাশ রুপু। সংগঠনের কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মাহবুবের রহমান শামীম।
অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার হরিশ কুমার এবং চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর।
এদিকে, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ও রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুই দিনব্যাপী ষোড়শ প্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হবে। জন্মাষ্টমী মহোৎসব উপলক্ষ্যে জেএমসেন হলের আশপাশে বিভিন্ন লোকজ সামগ্রীর দোকান বসেছে। এসব দোকানে নানা ধরনের সামগ্রীর পসরা সাজানো হয়েছে।
এমআর/এমএন
