দক্ষিণ কোরিয়ার বন্দরনগরী বুসানে অনুষ্ঠিত ‘কে-সেফটি এক্সপো ২০২৬’-এ ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম।
২ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর বুসানের বেক্সকো এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী এ মেলায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১০টি দেশের ৩৪০টি প্রতিষ্ঠান ৯২০টি বুথে আধুনিক প্রযুক্তি ও পণ্য প্রদর্শন করে। মেলায় প্রায় ৪০ হাজার দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।
‘অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে গড়ে উঠবে নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ’—প্রতিপাদ্যে নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার ইনটেরিয়র ও সেফটি মন্ত্রণালয় এবং বুসান মহানগর সিটি কর্পোরেশনের যৌথ পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বেক্সকো, বুসান টেকনোপার্ক ও কোর্তা-এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এবারের মেলাটি ছিল ১২তম আসর।
এবারের মেলায় শিল্প নিরাপত্তা, দুর্যোগ ও অগ্নি নিরাপত্তা, নিরাপত্তা প্রযুক্তি (সিকিউরিটি), পরিবহন ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা, বন্যা-ভূমিধস-ভূমিকম্প নিরাপত্তা এবং দৈনন্দিন নিরাপত্তাসহ নিরাপত্তা শিল্পের বিভিন্ন প্রযুক্তি ও পণ্য প্রদর্শিত হয়। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ার ইনটেরিয়র ও সেফটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইয়ুন হু-জং, বুসান মহানগরীর ভাইস মেয়র এবং আসিয়ান ও জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যালয়সহ অন্যান্য আমন্ত্রিত উচ্চপর্যায়ের দেশী-বিদেশি কূটনীতিক ও অতিথিবৃন্দ যৌথভাবে এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এছাড়া, মেলা চলাকালীন ‘গ্লোবাল ডিজাস্টার অ্যান্ড সেফটি বিজনেস ফোরাম’ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনসহ ২৬টি পেশাদার সম্মেলন ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বৈশ্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতি ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ দূতাবাস, সিউল বাংলাদেশে উৎপাদিত উন্নতমানের সেফটি সু, হ্যান্ড গ্লোভস, বিভিন্ন ধরনের ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি জ্যাকেট ও অন্যান্য পণ্য বিশ্বমঞ্চে অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করে দেশি-বিদেশি ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে।
বাংলাদেশ দূতাবাসের বিশেষ আমন্ত্রণে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান এপেক্স ফুটওয়্যার লি., লোটাস ফুটওয়্যার লি., কেএস লেদার গ্লোভস লি., ফুলএভার বাংলাদেশ লি., ক্রাফটসম্যান, ঐশী ডিজাইনস লি. এবং সু-ইনভার্স লি. কর্তৃক প্রেরিত সেফটি পণ্যসমূহ বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে প্রদর্শন করা হয়।
মেলায় আগত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কোরিয়ান ও বিদেশি দর্শনার্থী বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করেন এবং বাংলাদেশের সেফটি পণ্য, বিশেষত ইন্ডাস্ট্রিয়াল সু, সেফটি জ্যাকেট ও হেভি ডিউটি লেদার হ্যান্ড গ্লোভস দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে গভীর আগ্রহ সৃষ্টি করে।
প্যাভিলিয়ন পরিদর্শনকালে বিভিন্ন দেশের ক্রেতা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের মতবিনিময় হয়, যা ভবিষ্যতে ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্র তৈরি করবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ দেশের রপ্তানিমুখী নিরাপত্তা পণ্য শিল্পের বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এনআই/এমএন
