রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে পৃথক স্থান থেকে দুই গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ওই দুই গৃহবধূ হলেন- মিথিলা আক্তার নীলা (১৮) ও লাবনী আক্তার (২০)। পারিবারিক কলহ ও স্বামীর ওপর অভিমানের জেরে তারা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে ময়নাতদন্তের জন্য তাদের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটায় কামরাঙ্গীরচরের হাসান নগর ঝাউলাহাটি এলাকার একটি বাসা থেকে মিথিলা আক্তার নীলার লাশ উদ্ধার করা হয়।
কামরাঙ্গীরচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ব্রজ কিশোর পাল জানান, পারিবারিক কলহের জেরে মিথিলা নামের ওই নারী নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে আশপাশের লোকজনের মাধ্যমে জানা গেছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মৃত মিথিলার মামা সাদ্দাম হোসেন বলেন, দেড় বছর আগে মিথিলার প্রথম বিয়ে হয়। কিছুদিন পর বিবাহবিচ্ছেদ হলে শাকিল নামে এক যুবকের সঙ্গে তার পুনরায় বিয়ে হয়। সম্প্রতি সাবেক প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে মিথিলার মোবাইলে কথা বলা নিয়ে বর্তমান স্বামী শাকিলের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে স্বামীর ওপর অভিমান করে মিথিলা এই কাজ করেন। নিহত মিথিলা ঢাকার সাভারের বড় ওয়ালিয়া এলাকার জসিম উদ্দিনের একমাত্র মেয়ে ছিলেন।
অন্যদিকে, একই রাতে কামরাঙ্গীরচরের পানওয়ালা গলির বড় মসজিদ বড়গ্রাম এলাকার একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে লাবনী আক্তার নামের আরেক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
কামরাঙ্গীরচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। নিহত লাবনীর স্বামী মালয়েশিয়া প্রবাসী। রাতে মালয়েশিয়া থেকে স্বামী ফোন করলে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে মোবাইল ফোনে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্বামীর ওপর অভিমান করে লাবনী তার ভাইয়ের ঘরের সিলিংয়ের অ্যাঙ্গেলের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে মারা যান।
নিহত লাবনী লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থানার বামনা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। তিনি কামরাঙ্গীরচরের একটি বাসায় তার তিন বছরের ছেলেকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন।
এসএএ/বিআরইউ
