এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ঢাকা-জামালপুর রুটে চলাচলকারী একটি পরিবহনের চালক সোহেল রানাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকায় পুলিশ ও র্যাব যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ডিএমপি গুলশান বিভাগের এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এদিকে এ ঘটনায়, ডিএমপির পক্ষ থেকে আগামীকাল এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় লাশের রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তার সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন বিস্তারিত জানাবেন বলে জানানো হয়।
পুলিশের একটি সূত্র জানান, ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে ওই বাসের চালক ও সহকারীও রয়েছেন, যে বাসে করে ইসমাইল ভ্রমণ করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো বাস চালক সোয়েল রানা, চালকের সহকারী মনির এবং সুপারভাইজার সাজু। এর মধ্যে সোয়েল রানাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১।
র্যাব-১ এর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৪ সেপ্টেম্বর সকালে বনানী এলাকায় এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ আঙুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্রের ডাটাবেজ থেকে পরিচয় শনাক্ত করলে জানা যায় উক্ত ব্যক্তির নাম ইসমাইল হোসেন(৫০)। তিনি জামালপুর সদর উপজেলার জালাল উদ্দিনের ছেলে। জমি বিক্রির ৫ লাখ টাকা নিয়ে তিনি জামালপুর থেকে গাজীপুর ফিরছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর এক্সপ্রেসওয়েতে লাশ ফেলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনার পর জড়িতদের ধরতে র্যাব-১ এর আভিযানিক দল ছায়াতদন্ত শুরু করে । সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রধান সন্দেহভাজন আসামী বাস ড্রাইভার সোহেল রানা(৪০)-কে মহাখালী এলাকার ডেডিকেটেড কোভিড হাসাপাতাল-এর সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এছাড়া পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযান চালিয়ে অপর দুই সন্দেহ ভাজন আসামি বাসের সুপারভাইজার সাজু (২৮) ও বাসের হেলপার মনির (১৮)’কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রাজ ক্লাসিক বাস (রেজি নং: সিরাজগঞ্জ হ ১১-০০৮৫) জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের বনানী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এমএসি/বিআরইউ
