প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতকে আহ্বায়ক করে সর্বদলীয় সংসদীয় ককাস গঠন করা হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমপি সেলিমা রহমান ও জামায়াতের মহিলা শাখার সম্পাদক এমপি নুরুন্নিসা সিদ্দিকীকে সহআহ্বায়ক নির্বাচিত করা হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে সাইটসেভার্স, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (ডিআই) ও ব্লাইন্ড এডুকেশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (বারডো) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাস গঠন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের পরামর্শ সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
ড. মুহিত বলেন, প্রতিবন্ধিতা কোনো করুণা বা শুধু ভাতার বিষয় নয়, প্রতিটি নাগরিকের মতো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরও সংবিধান অনুযায়ী পূর্ণ ও সমান অধিকার রয়েছে। মানুষের শারীরিক সীমাবদ্ধতার চেয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের তৈরি বাধাই তাদের অংশগ্রহণে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষায় একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি বাস্তবায়ন কমিটিও কাজ করছে এবং গত ছয় মাসে দুটি কমিটি চারবার বৈঠক করেছে।
প্রতিবন্ধিতাকে বহুমাত্রিক ইস্যু উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়; স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থানসহ সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। সে অনুযায়ী নতুন সরকারি ভবনে বাধ্যতামূলক র্যাম্প, লিফট ও প্রতিবন্ধীবান্ধব টয়লেট রাখা এবং ৫০০ উপজেলা হাসপাতালে নির্মাণাধীন ১৫০ শয্যার ভবনে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন বিদ্যালয়েও র্যাম্প ও বিশেষ টয়লেট নির্মাণের উদ্যোগ রয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কথা তুলে ধরে ড. মুহিত বলেন, রাজধানীতে প্রায় ২০০টি হুইলচেয়ার-উপযোগী আধুনিক এসি বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মেট্রোরেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিদ্যমান ২৫ শতাংশ ভাড়ার ছাড় ভবিষ্যতে আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় ককাসের ভূমিকা, দায়িত্ব ও কার্যাবলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা প্রতিবন্ধিতা-অন্তর্ভুক্তিমূলক আইন ও নীতির পক্ষে কাজ করা, মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ উৎসাহিত করা, বাস্তবায়ন তদারকি জোরদার করা এবং আইনপ্রণেতা, ওপিডি, সুশীল সমাজ ও উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে নিয়মিত সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, অ্যাডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আরলী, ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম, মোস্তফা নাজমুন নাহার, নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি, নীলুফার চৌধুরী মনি, সানসিলা জেবরিন ও তাসমিয়া প্রধানসহ বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যরা অংশ নেন। এ ছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন, উন্নয়ন সহযোগী, জাতিসংঘ সংস্থা, দেশি-বিদেশি এনজিও, শিক্ষাঙ্গন ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এমএল/এএমকে
